পহেলগাঁওয়ের বদলায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ কেমন ছিল? জেনেনিন কি বলছে দেশের ৫৫% মানুষ?

জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত কীভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এবং ‘সি-ভোটার’-এর ‘মুড অফ দ্য নেশন’ সমীক্ষায় এই বিষয়ে মানুষের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

এই সমীক্ষাটি করা হয়েছে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট, ২০২৫ সালের মধ্যে। মোট ২,০৬,৮২৬ জন মানুষের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এর ফলাফল থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং মানুষের মতামত

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি বড় অভিযান চালায়। এই অভিযানের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল, সে বিষয়ে মানুষের মতামত নেওয়া হয়।

  • ৫৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এটি খুব শক্তিশালী এবং উপযুক্ত জবাব ছিল।
  • ১৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক অর্থাৎ যথেষ্ট ছিল।
  • ২১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এটি একটি দুর্বল প্রতিক্রিয়া ছিল।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর স্বচ্ছতা

এই অভিযানের বিষয়ে সরকার কতটা স্বচ্ছ ছিল, তা নিয়েও মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

  • ৫৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, সরকার এই বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।
  • ৩৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সরকার এই বিষয়ে স্বচ্ছ ছিল না।

যুদ্ধবিরতির কারণ কী?

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর হঠাৎ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এর কারণ কী হতে পারে, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে।

  • ৩১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল।
  • ২৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • ২৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, পাকিস্তান পরাজিত হওয়ার পর যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল, তাই তা মেনে নেওয়া হয়েছে।

ভারত কি পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলবে?

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ সব সময়ই একটি উত্তেজনার বিষয়। এই বিষয়ে মানুষের মনোভাব জানতে চাওয়া হয়েছিল।

  • ৬৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট খেলা উচিত নয়।
  • মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

এই সমীক্ষা থেকে স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষেই দেশের অধিকাংশ মানুষ। একই সঙ্গে, পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার ব্যাপারেও তাদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।