১০৩ টাকা খরচ থেকে ‘বন্দে মাতরম’ রচয়িতা! কেমন ছিল বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ির দুর্গাপুজো?

বিখ্যাত সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় শুধুমাত্র সাহিত্যসম্রাট ছিলেন না, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বেশ সচ্ছল ছিলেন। তার বাবা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার দানপত্রে লিখে গেছেন যে তাদের পারিবারিক দুর্গাপূজার সমস্ত খরচ বঙ্কিমকেই বহন করতে হতো। এর কারণ ছিল তার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের মোটা মাইনের চাকরি। বছর বছর বেতন বৃদ্ধি হওয়ায় তার আর্থিক কোনো অভাব ছিল না।
বঙ্কিমদের কাঁটালপাড়ার বাড়িতে জাঁকজমক করে দুর্গাপূজা হতো। বঙ্কিমের বাবা যাদবচন্দ্র এই পূজার প্রচলন করেন। বঙ্কিম পূজার খরচ বহন করলেও, এর সমস্ত আয়োজনের দায়িত্ব ছিল তার মেজো ভাই সঞ্জীবচন্দ্রের ওপর।
বঙ্কিম-ভবন গবেষণা কেন্দ্রের নথি থেকে জানা যায়, ১২৯০ বঙ্গাব্দে (১৮৮৩ সাল) এই পূজায় মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৪০৯ টাকা। এর মধ্যে শুধু প্রতিমা তৈরির খরচ ছিল ৫১ টাকা, আর ভোগ ও খাওয়ানোর খরচ ছিল ১৭৬ টাকারও বেশি। এর থেকে বোঝা যায় যে, সেই সময়ও তারা হাত খুলে খরচ করতেন।
আশ্চর্যজনকভাবে, এই পারিবারিক দুর্গাপূজার সঙ্গে বঙ্কিমের কালজয়ী গান ‘বন্দেমাতরম’-এর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বঙ্কিম গবেষক গোপালচন্দ্র রায়-এর মতে, ১৮৭৪ সালে যখন বঙ্কিম মালদহের ডেপুটি কালেক্টর ছিলেন, তখন পুজোর ছুটিতে বাড়িতে এসে দুর্গাপূজা দেখে তিনি ‘আমার দুর্গোৎসব’ এবং পরে ‘বন্দেমাতরম’ গানটি রচনা করেন।
বঙ্কিমচন্দ্রের বন্ধু সাহিত্যিক অক্ষয়চন্দ্র সরকারও তাদের বাড়ির পূজার জাঁকজমকের কথা লিখে গেছেন, যেখানে যাত্রা, গান এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। তাই, বলা যায় যে বঙ্কিমচন্দ্রের জীবনে এবং তার সাহিত্যকর্মে এই দুর্গাপূজার একটি বিশেষ প্রভাব ছিল।