ভাইপোর ‘দুর্নীতিতে’ পিসির কী অবদান? জীবনকৃষ্ণ ও মায়াকে মুখোমুখি বসিয়ে করা হবে জেরা

মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তার বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির মিডলম্যান বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। তবে শুধু জীবনকৃষ্ণ নন, তার পিসি মায়া সাহাও এখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর স্ক্যানারে রয়েছেন। তিনি বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভার একজন কাউন্সিলর। তার বাড়িতেও ED তল্লাশি চালিয়েছে এবং তাকে কলকাতায় CGO কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
বাবার বিস্ফোরক দাবি
জীবনকৃষ্ণ সাহার বাবা বিশ্বনাথ সাহা এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে, তার ছেলে এবং বোন (জীবনকৃষ্ণের পিসি) মিলে প্রচুর সম্পত্তি করেছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, এই টাকা-পয়সার কারসাজি হয়েছে এবং তাদের জেল হওয়া উচিত। বিশ্বনাথ সাহা আরও জানান, তিনি তার ছেলের সঙ্গে থাকেন না এবং তার জীবনযাত্রার দ্রুত উত্থান তিনি ভালো চোখে দেখেননি। তিনি তার বোন মায়া সাহার সম্পর্কেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রেড হওয়া দরকার ছিল। প্রচুর সম্পত্তি করেছে। বিধায়ক হয়েই তো এসব করেছে।’
বিশ্বনাথ সাহা আরও দাবি করেন যে, তার ছেলে বিধায়ক হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি করেছে এবং তার পিসিকেও কাউন্সিলর বানিয়েছেন। তার মতে, মায়া সাহার বাড়িতেও ED-র তল্লাশি প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘ওদের কিছুই ছিল না, একটা মিষ্টির দোকান ছিল। জীবন বিধায়ক হওয়ার পরেই সব কিছু হলো।’
পিসির ভূমিকা কি?
ED-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং তার সহযোগীরা নগদ টাকা দিয়ে প্রচুর জমি এবং বাড়ি কিনেছেন। অভিযোগ, এই সম্পত্তিগুলো একাধিক নামে ও বেনামে কেনা হয়েছে। এই পুরো দুর্নীতি প্রক্রিয়ায় তার পিসি মায়া সাহা তার প্রধান সহযোগী ছিলেন বলে জানা গেছে। মায়া সাহা অবশ্য বলেছেন, ‘জীবন সাহা আমার ভাইপো, রক্তের সম্পর্ক। তবে ও কী করেছে না করেছে, সেটা আমি বলতে পারব না।’
ইডি এই মুহূর্তে জীবনকৃষ্ণ সাহা ও তার পিসিকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এর ফলে এই দুর্নীতির আরও অনেক দিক সামনে আসতে পারে।
টাকার উৎস নিয়ে বিতর্ক
গ্রেফতার হওয়ার পর জীবনকৃষ্ণ সাহা প্রথমে দাবি করেছিলেন যে, তার সম্পত্তির টাকা তার নিজস্ব সঞ্চয় এবং বাবার দেওয়া উপহার থেকে এসেছে। কিন্তু তার বাবা বিশ্বনাথ সাহা ইডিকে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, তিনি তার ছেলেকে কোনো টাকা দেননি এবং তার ব্যবসাতেও জীবনকৃষ্ণের কোনো অংশীদারিত্ব ছিল না। বিশ্বনাথ সাহা আরও বলেন, এই সম্পত্তির জন্য যে টাকা ব্যবহার করা হয়েছে, তা সম্ভবত অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে নেওয়া হয়েছিল।