যাত্রী কমায় বন্ধ হচ্ছে শহরের বাস রুট? নতুন মেট্রো রুটে দুর্ভোগে বাস মালিকরা

কলকাতায় তিনটি নতুন মেট্রো রুট চালু হওয়ার পর শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন এসেছে। এবার হাওড়া থেকে শিয়ালদা, সেক্টর ফাইভ; আবার নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর এবং রুবি থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ায় যাত্রীরা খুব সহজেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন। এতে বাসের ওপর থেকে যাত্রীর চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফলস্বরূপ, বাস মালিকরা লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং অনেক রুটের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
কোন কোন রুটে প্রভাব পড়েছে?
নতুন মেট্রো রুটগুলো চালু হওয়ার ফলে মূলত কিছু বাস রুটের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। যেমন:
হাওড়া থেকে শিয়ালদা এবং সল্টলেক: ২৮ এবং ৭১ নম্বর রুটের বাসগুলো এখন প্রতিদিন লোকসান গুনছে। চালকদের মতে, প্রতি ট্রিপে ৫০ থেকে ১০০ জন যাত্রী কমেছে।
বাগুইআটি থেকে হাওড়া: ৪৪ নম্বর বাসের যাত্রীর সংখ্যাও আগের থেকে অনেক কমে গেছে।
সল্টলেক থেকে হাওড়া: ২১৫ এ রুটের বাসেও যাত্রী সংখ্যা কমেছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই রুটগুলোতে যাত্রী কমে যাওয়ায় বাস মালিকরা বেশ চিন্তিত। অনেকেই ভাবছেন, এই লোকসান সামলাতে রুটে পরিবর্তন আনা হবে কি না।
পরিবহণমন্ত্রী কী বলছেন?
রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, “মানুষ এখন তাদের রুচি এবং পছন্দ অনুযায়ী নতুন যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। আগে যেখানে একটি বাস ১০০ জন যাত্রী পেত, আজ সেখানে প্রায় ৬০ শতাংশ যাত্রী কমে গিয়েছে। এর ফলে অনেক বাসের জ্বালানির খরচও উঠছে না।”
তিনি জানান, অনেক বেসরকারি বাস রুট ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে বাস চালানোর কথা ভাবলেও, তার ক্ষমতা সীমিত। মুখ্যমন্ত্রীও এই সমস্যার দিকে নজর রেখেছেন। মানুষের সুবিধার জন্য সরকার এখন সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। এর জন্য ড্রাইভার-কন্ডাক্টর নিয়োগ এবং নতুন বাস কেনার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
পরিবহণমন্ত্রীর এই কথায় বোঝা যাচ্ছে, শহরের যাত্রীরা যেমন আরামদায়ক মেট্রো পরিষেবা পেয়ে খুশি, তেমনই অনেক বাস মালিকের জন্য এটি এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।