৫০০০ যৌনগন্ধী মেসেজ! চিকিৎসা করাতে গিয়ে মহিলা চিকিৎসকের উপর যৌনদৃষ্টি যুবকের, তারপর…..

উত্তরপ্রদেশের বস্তী জেলায় একজন মহিলা চিকিৎসককে হয়রানি এবং অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগে মহেশ তিওয়ারি নামে ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আবারও কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

লখনউয়ের ডঃ রাম মনোহর লোহিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের ইউরোলজি বিভাগের এক ৩২ বছর বয়সী সহকারী অধ্যাপকের অভিযোগ অনুযায়ী, মহেশ তিওয়ারি সেখানে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। প্রথমে তিনি চিকিৎসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসেজ পাঠাতে শুরু করেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই মেসেজগুলো ব্যক্তিগত এবং অশ্লীল হতে থাকে।

অভিযোগ, ওই মহিলা চিকিৎসক তিওয়ারির এই আচরণ উপেক্ষা করলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক দিনে প্রায় ১০০০ বার ফোন এবং ৫০০০-এর বেশি অশ্লীল মেসেজ পাঠিয়ে তিনি ওই চিকিৎসককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলেন।

শুধু ভার্চুয়াল জগতেই নয়, তিওয়ারি সরাসরি ওই চিকিৎসককে অনুসরণ করতেও শুরু করেন। তিনি চিকিৎসকের ফ্ল্যাটের আশেপাশে ঘোরাফেরা করতেন এবং প্রায়শই তাঁকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে অনুসরণ করতেন। চিকিৎসক জানান, এই কারণে তিনি একা ফ্ল্যাটে ফিরতে ভয় পেতেন।

ঘটনার চূড়ান্ত পর্যায়ে গত ১৯ আগস্ট তিওয়ারি চিকিৎসককে হাসপাতালের লিফটের সামনে দেখতে পান। তাঁর উদ্দেশ্য খারাপ মনে হওয়ায় চিকিৎসক চিৎকার করতে শুরু করেন। এতে তিওয়ারি পালানোর চেষ্টা করলেও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

২১ আগস্ট ওই চিকিৎসক স্থানীয় থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত তিওয়ারির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৭৮ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারায় মামলা রুজু করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

১০৯০ উইমেন পাওয়ার লাইনের পুলিশ সুপার বৃন্দা শুক্লা জানান, “এত বিপুল সংখ্যক মেসেজ ও ফোন করা কোনো স্বাভাবিক মানসিকতার পরিচয় দেয় না।” এই ঘটনার পর ওই চিকিৎসক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং তাঁর পরিবার নিরাপত্তার বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।