ফের তছনছ কাশ্মীর! বৈষ্ণদেবী যাত্রায় ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু ৩০ জনের, মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা

প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। একটানা ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের কারণে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বৈষ্ণদেবী যাত্রাপথে, যেখানে ভূমিধসে চাপা পড়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। এখনো অনেকেই মাটির নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরা এলাকার অর্ধকুমারীর কাছে মাতা বৈষ্ণদেবী মন্দিরের যাত্রাপথে এই ভয়াবহ ভূমিধসটি ঘটে। প্রবল বৃষ্টির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কেন্দ্র সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
মঙ্গলবার থেকে টানা বৃষ্টিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় ধ্বংসলীলা চলছে। ডোডা জেলায় হড়পা বানে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈষ্ণদেবী যাত্রা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে যাত্রাপথেই ধস নামে।
জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাত থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় সেতু ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও কাজ করছে না। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরে ছয় ঘণ্টায় ২২ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে গভীর রাত থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমেছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাজ্যজুড়ে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে।
একই সাথে রেল পরিষেবাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উত্তর রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বুধবার জম্মু ও কাটরা থেকে মোট ২২টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং ২৭টি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাঠানকোট থেকে হিমাচল প্রদেশ পর্যন্ত রেল পরিষেবাও বাতিল করা হয়েছে।
এর আগেও এই মাসেই কিশ্তওয়াড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন করে এই বিপর্যয় রাজ্যের মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।