ভবিষ্যতের ‘সোনা’ হতে চলেছে রুপো? টন টন মজুত করছে বিশ্বের অন্যতম এই ধনী দেশ

সোনা নয়, এখন কেবল রুপো কিনছে সৌদি আরব। বিশ্বের অন্যতম ধনী এই দেশটি সম্প্রতি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা সবার নজর কেড়েছে। সাধারণত, বেশিরভাগ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনার উপর বেশি বিনিয়োগ করে। কিন্তু সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ দেখে অনেকেই অবাক। প্রশ্ন উঠেছে, কেন হঠাৎ সোনার বদলে রুপো কেনার দিকে ঝুঁকছে তারা?

রুপো এখন আর শুধুই গয়না নয়
একটা সময় ছিল যখন রুপোকে শুধু গয়না বা মুদ্রা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন এর ব্যবহার অনেক বেড়েছে। সৌর প্যানেল থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্রপাতি—সব কিছুতেই রুপো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর কারণেই বিশ্বজুড়ে রুপোর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

সৌদি আরব মনে করছে, রুপো কেবল একটি ধাতু নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির ‘মেরুদণ্ড’। এই সিদ্ধান্তকে তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো তেলের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানো এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি ও শিল্পে বিনিয়োগ করা।

বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?
সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন শুধু সোনার ওপর ভরসা করছে না। তারা এমন ধাতুগুলোতে বিনিয়োগ করছে, যা ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রুপোর প্রায় ৫০ শতাংশ চাহিদা আসে শিল্প ব্যবহার থেকে, যেমন সৌরশক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি এবং ৫জি প্রযুক্তি। সৌদি আরব তাদের মেগা প্রজেক্টগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তাই তারা নিজেদের জন্য রুপোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোকে এখন আর ‘গরিবের সোনা’ বলা যায় না। এটি একটি মূল্যবান সম্পদ, যা ভবিষ্যতে আরও লাভজনক হতে পারে। গত বছরে রুপো প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি রিটার্ন দিয়েছে, যা সোনার থেকেও বেশি।

সোনার মতো রুপোতেও কি বিনিয়োগ করা উচিত?
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অস্থির বাজারে সোনা হলো ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’, যা আপনার বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখে। অন্যদিকে, রুপোকে এখন ‘বৃদ্ধির চালিকাশক্তি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তি ও সবুজ শক্তির মতো নতুন শিল্পে এর ব্যবহার বাড়ছে, তাই দীর্ঘ মেয়াদে রুপো বিনিয়োগের জন্য একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে স্থিতিশীলতার জন্য আপনার মোট বিনিয়োগের ৮% সোনা এবং বৃদ্ধির জন্য ১৫% রুপো রাখা যেতে পারে। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্ত বাকি দেশগুলোকেও রুপোতে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করবে, যা ভবিষ্যতে এর দাম আরও বাড়াতে পারে।