“আসামে জনসংখ্যার থেকে দুই শতাংশ বেশি আধার কার্ড”- দাবি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার

আসামে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে এখন থেকে আর নতুন আধার কার্ড দেওয়া হবে না। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘোষণা করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে তিনি রাজ্যে জনসংখ্যার চেয়ে ২% বেশি আধার কার্ড ইস্যু হওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হাতে সেগুলো চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন যে, আসামের মোট জনসংখ্যার চেয়ে প্রায় ২% বেশি আধার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। তার মতে, বাংলাদেশে সরকার বদলের পর থেকে আসামে অনুপ্রবেশ বেড়েছে এবং এই অনুপ্রবেশকারীরা নকল নথি ব্যবহার করে আধার কার্ড নিচ্ছেন। এই ধরনের অনুপ্রবেশ আটকাতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে, ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসের জন্য একটি বিশেষ সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, যাতে যেসব প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এখনো আধার কার্ড পাননি, তারা আবেদন করতে পারেন। চা বাগান শ্রমিক, তপশিলি উপজাতি এবং পার্বত্য উপজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আপাতত চালু হচ্ছে না। তাদের জন্য অতিরিক্ত এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও যদি কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক কোনো কারণে বাদ পড়েন, তাহলে জেলাশাসকের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আধার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আইনজীবী ও বিরোধীদের প্রশ্ন

সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধার এবং নাগরিকত্বের মতো বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। এটি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত বিষয়। গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার হয়তো মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু তা কার্যকর করার অধিকার তাদের নেই। এটা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল মাত্র।’

অন্যদিকে, বিরোধীরাও সরকারের সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সইকিয়া প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন অতিরিক্ত আধার কার্ড ইস্যু হচ্ছিল, তখন সরকার কী করছিল? তার মতে, এই ঘটনা সরকারের প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রমাণ করে। তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে কাল্পনিক যুক্তি দিচ্ছেন।’

আধার কার্ড এবং এনআরসি-র সম্পর্ক

উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালে আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) প্রথম তালিকা থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ বাদ পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ২৬.৬ লক্ষ মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য (হাতের ছাপ) জমা করা হলেও, তাদের আধার কার্ড দেওয়া হয়নি। প্রায় ৬ বছর পর গত বছর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাদের আধার কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধার কার্ড দেশের যে কোনো রাজ্য থেকে বানানো যায়। তাই আসাম সরকার এই নিয়ম চালু করলেও, যার আধার দরকার তিনি অন্য রাজ্যে গিয়ে তা বানিয়ে নিতে পারবেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই সিদ্ধান্ত আদৌ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।