সংসার ধর্ম পালন করতে গিয়ে বাদ পড়াশুনা! মেয়ের সঙ্গে কাঁধ কাঁধ মিলিয়ে MA পরীক্ষা দেবেন মা, প্রশংসা সকলের

৪৬ বছর বয়সে মেয়ের সঙ্গে স্নাতক হয়ে দৃষ্টান্ত গড়লেন উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার বাসিন্দা সঙ্গীতা দে। ১৯৯৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিতে ফেল করার পর তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বিয়ে, সংসার এবং দুই সন্তানের দায়িত্ব সামলেছিলেন। কিন্তু স্নাতক হওয়ার স্বপ্ন তিনি কখনও ছাড়েননি।

২৪ বছর পর, ২০১৯ সালে রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে আবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন সঙ্গীতা। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য তিনি বেলঘরিয়ার একটি স্কুলে ভর্তি হন, তখন তার ছোট মেয়ে সহেলী একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। ২০২২ সালে মা-মেয়ে দুজনেই একসঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। মা পান ৪৩৮ নম্বর আর মেয়ে পায় ৩৯৭।

উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর দুজনই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। তিন বছর ধরে একই কলেজে, একই ক্লাসে, একই বেঞ্চে বসে পড়াশোনা করেছেন তারা। শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মা পেয়েছেন ৭৫% এবং মেয়ে পেয়েছে ৮০%। মা বলছেন, মেয়ের নম্বর তার চেয়ে বেশি হওয়ায় তিনি খুব খুশি।

পড়াশোনার পাশাপাশি সঙ্গীতাকে প্রতিদিন সংসারের সব কাজ সামলাতে হয়েছে। ভোরে উঠে পরিবারের জন্য রান্না করা, তারপর পাড়ার বাচ্চাদের পড়ানো, এবং কলেজে যাওয়া ছিল তার প্রতিদিনের রুটিন। এছাড়াও তিনি সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতে সাহায্য করেন। এতো কিছুর মধ্যেও তিনি পড়া চালিয়ে গেছেন।

সঙ্গীতা এখন মেয়ে সহেলীর সঙ্গে স্নাতকোত্তর (এমএ) করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা দুজনেই সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজে আবেদন করেছেন। সঙ্গীতা আশা করছেন, ভালো একটি চাকরি পেলে তার স্বামীকে আর্থিক দিক থেকে সাহায্য করতে পারবেন। মা-মেয়ের এই অসাধারণ সাফল্যে তাদের স্বামী ও বাবা স্বপন দেও পাশে ছিলেন। সহেলী বলেন, কলেজে মায়ের সাথে তার বয়সের কোনো ব্যবধান মনে হয়নি। মাও সহজে সবার সাথে মিশে যেতে পারতেন এবং তাদের বন্ধুত্বে কোনো বাধা দেননি। তাদের কলেজের বিভাগীয় প্রধানও বলেছেন যে সঙ্গীতা দেখিয়ে দিলেন পড়াশোনার কোনো বয়স হয় না।