‘মেয়ের বিয়ে দেওয়ার টাকা নেই!’ মানবিক মুখ দেখাল মুর্শিদাবাদ পুলিশ, অসহায় মায়ের দিকে বাড়ালেন সাহায্যের হাত

একদিকে যেখানে বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া হাতে কাজ করছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ, সেখানে এক মানবিক ছবি দেখা গেল খড়গ্রামে। টাকার অভাবে যে মেয়ের বিয়ে হচ্ছিল না, সেই মেয়ের বিয়ের সব দায়িত্ব নিল খড়গ্রাম থানার পুলিশ। থানার ওসি সুরজিৎ হালদারের উদ্যোগে এক দুঃস্থ পরিবারের মেয়ের বিয়ে হলো, যা দেখে অবাক হয়েছেন গ্রামের সবাই।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়

জানা গেছে, সুলেখা নামের ওই মেয়ের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। পরিবারে মা ফরিদা বিবি ছাড়া আর কেউ নেই। মা-মেয়ে মিলে পশুপালন এবং হাতের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। সুলেখার বয়স ২৫ হতেই মা মেয়ের বিয়ের জন্য চিন্তায় পড়েন। অবশেষে গ্রামেরই এক পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু বিয়ের খরচ চালানো তাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল।

পুলিশের মানবিক উদ্যোগ

বিয়ের খরচ জোগাড়ের জন্য ফরিদা বিবি বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য চাইতে শুরু করেন। একসময় তিনি খড়গ্রাম থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চান। থানার ওসি সুরজিৎ হালদার পুরো বিষয়টি জানার পর সুলেখার বিয়ের যাবতীয় ব্যবস্থা করার দায়িত্ব নেন।

বিয়েতে পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন এবং পাত্রীকে বিদায় জানান। সুলেখা বলেন, “পুলিশ কাকারাই আমার সব শখ পূরণ করেছেন। আমি ভাবিনি এভাবে আমার বিয়ে হবে।” তার মা ফরিদা বিবিও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাত্রও খুশি হয়ে জানান, তিনি ভেবেছিলেন মসজিদে গিয়ে খুব সাধারণ ভাবে বিয়ে করবেন, কিন্তু পুলিশ এভাবে অনুষ্ঠান করে বিয়ে দেবে তা ভাবতে পারেননি।

মুর্শিদাবাদ জেলার যেখানে নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করতে পুলিশ তৎপর, সেখানেই এমন একটি মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের এই নতুন দিকটি সবার কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।