‘আমার মাথায়ও বন্দুক উঁচিয়েছিল, গুলি না থাকায়…’ বিস্ফোরক দাবি করলেন ঈশিতার মা

বাবার সঙ্গে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আর যাওয়া হলো না কৃষ্ণনগরের ছাত্রী ঈশিতার। তার মা কুসুম মল্লিক বারবার বলছেন, যদি সেদিনই তারা কলকাতায় চলে যেতেন, তাহলে হয়তো মেয়েকে এভাবে হারাতে হতো না। সোমবার দুপুর থেকে কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ খুনের মামলায় অভিযুক্ত যুবক দেশরাজ সিং-এর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
বাড়িতে ঢুকে গুলি, আতঙ্কে এলাকাবাসী
জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ঈশিতা বাড়িতে একা ছিলেন। কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা জনৈক দেশরাজ সিং তখন তার বাড়িতে চড়াও হন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, দেশরাজ সিং গুলি করে ঈশিতাকে হত্যা করেন। পরে তিনি যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ঈশিতার মা কুসুম স্কুল থেকে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। অভিযুক্ত তখন কুসুমের সঙ্গে কথা বলতে চায়। ফাঁকা বাড়িতে দেশরাজকে দেখে অবাক হয়ে যান কুসুম। তিনি তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন।
ঈশিতার মায়ের অভিযোগ, এরপরেই দেশরাজ তার দিকে বন্দুক তাক করে ট্রিগার চাপেন, কিন্তু গুলি না বের হওয়ায় তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। কুসুমের দাবি, তার মেয়ের মাথায় দুটি গুলি করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের পরই জানা যাবে ঠিক ক’টা গুলি করা হয়েছে এবং কতদূর থেকে মারা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র ও পুলিশের তদন্ত
ঈশিতার বাবা জয়দেব মল্লিক একজন প্রাক্তন সেনা কর্মী এবং বর্তমানে একটি ব্যাঙ্কে কাজ করেন। ঈশিতা কাঁচরাপাড়ার একটি স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। সম্প্রতি কলকাতার একটি কলেজে তার ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এদিকে, অভিযুক্ত দেশরাজ সিং-এর বাবা পুলিশকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে দেশরাজ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, তারা দ্রুত অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছেন।