SC-ST তালিকায় ‘অযোগ্যদের’ নাম ঢোকায় ক্ষুব্ধ মমতা, মুখ্যসচিবকে তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জাতি (এসসি) ও উপজাতি (এসটি) তালিকায় কিছু ‘অযোগ্য’ মানুষের নাম ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার নবান্নে জনজাতি উন্নয়ন পর্ষদের এক বৈঠকে তিনি মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেন।

বৈঠকে জনজাতি সম্প্রদায়ের এক মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, এসসি-এসটি তালিকায় এমন অনেকের নাম আছে, যারা আসলে ওই সম্প্রদায়ের নন। এর ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই অভিযোগ শুনেই মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং বলেন, বনাঞ্চলের অধিকার এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত জনজাতিরা পান, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে তৃণমূল বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল। যদিও ২০২১ সালে কিছুটা প্রভাব ফিরিয়ে আনতে পেরেছিল, তবুও বিজেপির প্রভাব ছিল। তবে সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার মতো জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তৃণমূল জয় পেয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনজাতি ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্ত্রীদের আরও সক্রিয় হতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রীদের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় সরাসরি গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে বলেছেন। তিনি বলেন, অনেক সরকারি প্রকল্পের কথা প্রচারের অভাবে মানুষ জানতে পারছে না, ফলে তারা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

বিজেপি সাংসদদের অনুপস্থিতি: এই বৈঠকে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং প্রাক্তন সাংসদ দশরথ তিরকেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা কেউই আসেননি। খগেন মুর্মু পরে জানান, আমন্ত্রণের চিঠিতে বৈঠকের কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না, তাই তিনি যাননি।

শংসাপত্র এবং অলচিকি হরফ: এসসি-এসটি শংসাপত্র পেতে মানুষের হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, যোগ্যরা যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন। এছাড়াও, সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের একটি স্কুলের প্রশ্নপত্রে অলচিকি হরফ না থাকা নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছিল, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার পরও কেন এমন অবহেলা হবে।