ফোনের মধ্যেই ল‘প্রাণ ভ্রমরা’! চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে টাকা নিয়ে যা কথা হয়েছিল জীবনের, প্রকাশ্যে ‘কল ডিটেল’

মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা তার দুটি মোবাইল ফোনকে যেন প্রাণের মতো আগলে রাখতেন। কারণ, এই ফোনগুলোই ছিল তার দুর্নীতির ‘গুপ্তধন’। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে যতবারই ইডি-সিবিআই তার বাড়িতে হানা দিয়েছে, ততবারই তিনি তার ফোন পুকুরে ফেলে দিয়ে তথ্য নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।

২০২৩ সালে একবার সিবিআই তল্লাশি চালানোর সময় জীবনকৃষ্ণ সাহা নাটকীয়ভাবে তার দুটি মোবাইল ফোন পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেন। পরে পাম্প চালিয়ে এবং কাদাজল ঘেঁটে ফোন দুটি উদ্ধার করা হয়। এরপর সেই ফোন থেকে কল রেকর্ড উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই কল রেকর্ড থেকে বিধায়ক ও এক চাকরিপ্রার্থীর কথোপকথন ফাঁস হয়ে গেছে, যেখানে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

কী আছে সেই কল রেকর্ডে?

টাকা ফেরত চাওয়ায় হুমকি: ২০২২ সালের ৮ই অক্টোবর, মোট ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ডে এক চাকরিপ্রার্থী বিধায়ককে তার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে বিধায়ক পূজার মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন, কিন্তু পরে তিনি অর্ধেক টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

লোন নিয়ে টাকা দেওয়ার কথা: বিধায়ক কথোপকথনে বলেন, “তোমার জন্য লোন করতে হল… তোমাকে ৬ দেব আপাতত, বাকি পরে দেব।” এতে বোঝা যায় যে তিনি টাকা ফেরত দিতে চান না।

সবার কাছ থেকে অর্ধেক টাকা নেওয়ার কথা: তিনি বলেন, “টাকা যখন দিতে লেগেছি টাইম লাগবে, দিয়ে দেব। বেশি খিটিমিটি করলে দেব না, যা পারবা করবা এই হচ্ছে ঘটনা।” এর থেকে স্পষ্ট যে তিনি সবাইকে অর্ধেক টাকা দিচ্ছেন।

এফআইআর করার হুমকি: কথোপকথনের এক পর্যায়ে জীবনকৃষ্ণ সাহা চাকরিপ্রার্থীকে হুমকি দেন, “বেশি কিছু করবা তো আমি কিন্তু এফআইআর করে দেব।” এতেই প্রমাণিত হয় যে তিনি তার অবৈধ কার্যকলাপ ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন।

বারবার ফোন নষ্ট করার চেষ্টা এবং এই কথোপকথন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, জীবনকৃষ্ণ সাহা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এবং যখন তারা টাকা ফেরত চেয়েছেন, তখন তাদের হুমকিও দিয়েছেন। ইডি-সিবিআই এখন সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।