‘আবর্জনা’ জমা দিলেই মেলে বিনামূল্যে খাবার, ভারতে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘গারবেজ ক্যাফে’

অর্থের বদলে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে খাবার পাওয়ার ধারণাটি হয়তো শুনতে অদ্ভুত, কিন্তু ভারতের ছত্তিশগড়ের অম্বিকাপুর শহরে এটি এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই ‘গারবেজ ক্যাফে’ শুধু স্থানীয় দরিদ্র মানুষের ক্ষুধা নিবারণই করছে না, একই সঙ্গে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার এক অভিনব উপায় হিসেবেও কাজ করছে।
‘মোর দ্য ওয়েস্ট, বেটার দ্য টেস্ট’— এই স্লোগান নিয়ে কাজ করা অম্বিকাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এএমসি) এই উদ্যোগে প্রতিদিন গড়ে ২০-৩০ জন মানুষ বিনামূল্যে খাবার পান।
১ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্যের বদলে: একজন ব্যক্তি ভরপেট খাবার পান, যার মধ্যে থাকে দু’রকমের তরকারি, ডাল, রুটি, সালাদ এবং আচার।
আধা কেজি প্লাস্টিক বর্জ্যের বদলে: জলখাবার হিসেবে সিঙ্গারা বা বড়া পাও পাওয়া যায়।
বর্জ্য থেকে অর্থ, রাস্তা থেকে জীবন
সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্যকে আলাদা করে পুনর্ব্যবহার করা হয়। কিছু প্লাস্টিক গলিয়ে রাস্তা তৈরির জন্য দানা (granules) বানানো হয়, আবার কিছু পুনর্ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রি করে সরকারি তহবিলে অর্থ জমা হয়।
২০১৬ সালে অম্বিকাপুরের ১৬ একর বিস্তৃত ডাম্পিং গ্রাউন্ডটিকে একটি পার্কে রূপান্তরিত করা হয়। এর কারণ হলো ‘জিরো-ওয়েস্ট ডিসেন্ট্রালাইজড সিস্টেম’ বা শূন্য-বর্জ্য বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা চালু করা। এই পদ্ধতির সুবাদে শহরটি এখন ‘জিরো ল্যান্ডফিল সিটি’ হিসেবে পরিচিত।
এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে আছেন ৪৮০ জন নারী, যাদের ‘স্বচ্ছতা দিদি’ বলা হয়। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করেন এবং বর্জ্য বাছাই ও আলাদা করেন, যার জন্য মাসে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন। রশ্মি মণ্ডলের মতো বাসিন্দারা জানান, আগে তারা প্লাস্টিক কেজি প্রতি মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করতেন, কিন্তু এখন সেই একই প্লাস্টিকের বিনিময়ে পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারছেন।
উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ
যদিও এই উদ্যোগটি প্রশংসিত হয়েছে, তবুও এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। পরিবেশবিদদের মতে, ‘গারবেজ ক্যাফে’ মূল সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান নয়, বরং একটি ‘উপলকা সমাধান’। এছাড়া, বর্জ্য সংগ্রহকারীদের জন্য মৌলিক সুরক্ষা সরঞ্জাম না থাকায় তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও থেকে যায়।
তবে অম্বিকাপুরের এই সফল মডেল এখন ভারতের অন্যান্য শহর যেমন শিলিগুড়ি, মুলুগু, মাইসুরু, এমনকি উত্তর প্রদেশেও অনুসরণ করা হচ্ছে। কোথাও প্লাস্টিকের বিনিময়ে চাল, কোথাও স্যানিটারি প্যাড, আবার কোথাও ক্যান্টিনে খাবার দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগটি শুধু দারিদ্র্য দূরীকরণে সাহায্য করছে না, বরং একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনেও অনুপ্রাণিত করছে। এটি প্রমাণ করে যে স্থানীয় পর্যায়ে সামান্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে বড় সমস্যারও সমাধান করা সম্ভব।