মেয়ের বিয়ের সাহায্য চেয়ে ওসির চেম্বারে ঢুকে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন মা! তারপর…..

বাড়িতে সেজেছে নহবতখানা, বাজছে সানাই। পাড়াপড়শিরা সবাই এসেছেন সুলেখার বিয়ে দেখতে। কিন্তু কিছুদিন আগেও এই দৃশ্য ছিল অকল্পনীয়। আর্থিক সংকটে সুলেখার বিয়ে কিছুতেই হচ্ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত তার পাশে দাঁড়ালেন খড়গ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুরজিৎ হালদার, যিনি ‘দাদা’র ভূমিকা পালন করে সুলেখার বিয়ে দিলেন।

মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের শেরপুর গ্রামের সুলেখার বাবা অনেক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। মা ফরিদা বিবি অনেক কষ্টে সংসার চালান। বিয়ের বয়স হয়ে গেলেও টাকার অভাবে বারবার তার বিয়ে ভেঙে যাচ্ছিল। সম্প্রতি একজন পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে সুলেখার বিয়ে ঠিক হলেও, বিয়ের খরচ জোগাড় করতে পারছিল না তার পরিবার।

কোনো উপায় না দেখে ২১ আগস্ট ফরিদা বিবি সরাসরি খড়গ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুরজিৎ হালদারের কাছে গিয়ে তার কষ্টের কথা জানান। ফরিদাকে আশ্বস্ত করে সুরজিৎ হালদার ‘দাদা’র দায়িত্ব নিয়ে এই বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তার উদ্যোগে এলাকার কয়েকজন সমাজসেবীও এগিয়ে আসেন। তারা নতুন দম্পতির জন্য খাট, বিছানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দেন।

রবিবার সুলেখার বাড়িতেই বসে বিয়ের আসর। কব্জি ডুবিয়ে সবাই ভালো মন্দ খেলেন। ফরিদাও খুব খুশি। তিনি বলেন, “থানার বড়বাবু আজ আমার ‘ছেলে’ হিসেবে পাশে দাঁড়িয়ে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। আমার মেয়ে আজ শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে, কিন্তু আমি একজন নতুন ছেলেকে পেলাম।”

বিয়ে শেষে সুলেখা তার ‘দাদা’ সুরজিৎ হালদারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ চেয়েছেন, যেন পরের জন্মেও তিনি তার দাদা হন। ওসি সুরজিৎ হালদার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, শুধু বলেন, “আমার সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই করেছি।”