গর্ভবতী স্ত্রীকে টুকরো টুকরো করে কেটে ভাসিয়ে দিলো স্বামী, হায়দরাবাদে ফের নৃশংসতা

আবারও এক নৃশংস খুনের ঘটনা সামনে এল। উত্তর প্রদেশের নয়ডার পর এবার হায়দরাবাদ। গর্ভবতী স্ত্রীকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে মুসি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্বামী মহেন্দ্র রেড্ডিকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার বিকেলে মহেন্দ্র এবং তার ২১ বছরের স্ত্রী স্বাতী যাদবের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। স্বাতী জানিয়েছিলেন যে তিনি মেডিক্যাল চেকআপের জন্য বাপের বাড়িতে যাবেন এবং সন্তান প্রসবের পর পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন। এতেই আপত্তি তোলে মহেন্দ্র। এরপর রাগের মাথায় মহেন্দ্র তার স্ত্রীর গলা টিপে ধরে এবং সেখানেই স্বাতীর মৃত্যু হয়।

পুলিশের অনুমান, শনিবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। এরপর প্রমাণ লোপাট করার জন্য মহেন্দ্র একটি করাত দিয়ে স্ত্রীর দেহটি টুকরো টুকরো করে। দেহের মাথা, হাত এবং পা কেটে আলাদা করে সে মুসি নদীতে ফেলে দেয়। কিন্তু ধড়টি একটি ট্রাঙ্কের মধ্যে ভরে ঘরেই রেখে দেয়।

স্ত্রীর নিখোঁজ খবর এবং পুলিশের তদন্ত

স্বাতীকে খুন করার পর মহেন্দ্র তার এক আত্মীয়কে ফোন করে জানায় যে স্বাতী নিখোঁজ। এতে সন্দেহ হলে আত্মীয়রাই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মহেন্দ্রর বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং ট্রাঙ্কের মধ্যে স্বাতীর দেহাবশেষ খুঁজে পায়।

পুলিশ জানিয়েছে, দেহটি স্বাতীর কিনা তা নিশ্চিত হতে DNA পরীক্ষা করানো হবে। মুসি নদীতে ফেলে দেওয়া দেহের বাকি অংশগুলো এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

কেন এই খুন?

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মহেন্দ্র তার অপরাধ স্বীকার করেছে। তবে কেন সে এমন নৃশংসভাবে তার স্ত্রীকে হত্যা করল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জানা গেছে, তাদের বিয়ের পর থেকেই প্রায়ই অশান্তি হত। আগেও একবার গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগে স্বাতী থানায় গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য প্রবীণদের মধ্যস্থতায় তারা মিটমাট করে নেয়।