শান্তিনিকেতনে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে! দখল রুখতে এবার নড়েচড়ে বসছে বোর্ড

এককালে শান্ত ও নিরিবিলি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বোলপুর-শান্তিনিকেতন এখন জমি মাফিয়াদের কবলে। অভিযোগ উঠেছে, এই মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে এখন সরকারি জমি বাঁচাতে খোদ প্রশাসনকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রশাসন এখন বিভিন্ন সরকারি জমিতে বোর্ড লাগিয়ে দিচ্ছে, যাতে কেউ সেগুলো দখল করতে না পারে।

গত কয়েক বছর ধরে শান্তিনিকেতনে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ অনেক বেড়েছে। এর ফলে সেখানে হোটেল, রিসর্ট, এবং আবাসন ব্যবসা দ্রুত বাড়ছে। আর এই সুযোগে জমি মাফিয়ারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা শুধু সাধারণ মানুষের জমিই নয়, আদিবাসীদের পাট্টা জমি, চাষের জমি এবং এমনকি ঐতিহ্যবাহী কোপাই নদীর তীর পর্যন্ত দখল করে নিচ্ছে। নিয়ম না মেনে অনেক জায়গায় নির্মাণ কাজও চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি কাজ চললেও প্রশাসন ছিল নীরব। যখনই সংবাদমাধ্যমে কোনো খবর প্রকাশ হয়েছে, তখনই কিছুদিনের জন্য কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়েছে, কিন্তু পরে পরিস্থিতি আবার আগের মতোই হয়ে গেছে। বিরোধীরা বলছেন, বোলপুর-শান্তিনিকেতন এখন জমি মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, শাসক দলের কিছু নেতা-মন্ত্রী এই মাফিয়াদের সঙ্গে জড়িত।

মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের কিছু উদাহরণ:

  • কোপাই নদী: কোপাই নদীর তীর এবং নদীগর্ভ পর্যন্ত দখল করে নির্মাণ কাজ চলছিল। সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক এসে তা বন্ধ করেন।
  • বিদ্যালয়ের জমি: গোয়ালপাড়া তনয়েন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাড়ে চার কাঠা জমি একটি বেসরকারি রিসর্ট দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ।
  • আদিবাসীদের জমি: আদিবাসীদের পাট্টা জমি দখল করে বিলাসবহুল আবাসন গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
  • সরকারি দফতর ও জমি: সেচ দফতরের ক্যানেল বন্ধ করে হোটেল ও রিসর্ট তৈরি হয়েছে। এছাড়া পর্যটন দফতর এবং শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের (SSDA) জমিও দখল হয়ে যাচ্ছে।

শঙ্কিত প্রশাসন

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন এখন সরকারি জমি বাঁচাতে বোর্ড লাগানো শুরু করেছে। বোলপুর পৌরসভা, সেচ বিভাগ, বন বিভাগ এবং SSDA-এর পক্ষ থেকে এই বোর্ড লাগানো হচ্ছে। এর থেকেই বোঝা যায় যে মাফিয়াদের আগ্রাসন কতটা বেড়েছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, প্রশাসনের কাছেই এর কোনো সঠিক হিসাব নেই যে কোন সরকারি দফতরের কত জমি বেহাত হয়েছে।

বিজেপি এবং সিপিআইএম উভয় বিরোধী দলই এই অবস্থার জন্য শাসক দলকে দায়ী করেছে। তারা বলছে, শাসক দলের মদত ছাড়া এমনটা সম্ভব নয়। বিজেপি জানিয়েছে, তারা এই বেআইনি জমি দখলের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন করবে।