মৃত্যুর পরেও ৫০ বছর ধরে একইভাবে ‘ধ্যানমগ্ন’, কোন মন্দিরে গেলে দেখা মিলবে এই সন্ন্যাসীর?

৫০ বছর আগে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। কিন্তু আজও সেই সন্ন্যাসীর দেহ বসে আছে একই আসনে, একই ভঙ্গিতে। থাইল্যান্ডের কো সামুই দ্বীপের ওয়াট খুনারাম মন্দিরে এই অলৌকিক দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ। সন্ন্যাসী লুয়াং ফো ডোয়েং-এর সংরক্ষিত এই দেহ এখন স্থানীয়দের কাছে এক পবিত্র নিদর্শন।
লুয়াং ফো ডোয়েং, যিনি ডাং পিয়াসিলো নামেও পরিচিত, ১৯২৭ সালে ৭৯ বছর বয়সে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি নিজেই তাঁর দেহ সংরক্ষণ করে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যুর ৫০ বছর পরও তাঁর দেহটি একইভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। একটি কাচের কফিনের মধ্যে তাঁর দেহ রাখা হয়েছে, যা দর্শনার্থীরা দেখতে পান।
কীভাবে সংরক্ষিত হল দেহটি?
১৯৭৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর দেখা যায় যে দেহটি স্বাভাবিকভাবেই মমি হয়ে গেছে, কোনও কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে তীব্র জলশূন্যতা সত্ত্বেও তাঁর দেহের বেশিরভাগ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অক্ষত রয়েছে। যদিও তা আকারে অনেকটা ছোট হয়ে গেছে। অবাক করা বিষয় হলো, এত বছর পরেও তাঁর ভেতরের অঙ্গ এবং মস্তিষ্কের কোষ-কলা এখনও অক্ষত আছে।
শরীরে টিকটিকি ও চশমা:
যদিও দেহটি অক্ষত, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে নানা ধরনের কীটপতঙ্গ ও টিকটিকি তাঁর শরীরের ভেতরে ও ত্বকের নিচে বাসা বেঁধেছে। এটা দেখে দর্শনার্থীরা যাতে ভয় না পান, বিশেষ করে শিশুদের মনে যাতে কোনও ভয়ের সৃষ্টি না হয়, তাই তাঁর চোখে একটি কালো চশমা পরিয়ে রাখা হয়েছে। এতে তাঁকে অনেক বেশি স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত দেখায়।
আধ্যাত্মিক বিশ্বাস:
স্থানীয় মানুষজন বিশ্বাস করেন যে লুয়াং ফো ডোয়েং-এর উপস্থিতি তাঁদের জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনে। তাঁর পবিত্র দেহ দেখতে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। তাঁর কাছে লটারির টিকিটও বিক্রি করা হয়, কারণ অনেকেই বিশ্বাস করেন যে তাঁর আশীর্বাদে তাঁরা বিজয়ী হতে পারেন। বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারে, কঠোর ধ্যান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে মৃত্যুর পর এভাবেই মমি করে রাখা হয়। লুয়াং ফো ডোয়েং-এর এই সংরক্ষিত দেহ একইসঙ্গে আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্য বহন করছে।