‘এ ভাবে কি চলাফেরা করা যায়?’-বিক্ষোভের মুখে পড়ে কাদাপথেই হেঁটে চললেন মন্ত্রী

“আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান” প্রকল্পের অধীনে শুক্রবার ঝাড়গ্রামের গ্রামবাসীরা এক ‘বিরল’ দৃশ্যের সাক্ষী হলো। গ্রামের কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেখা গেল রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা এবং বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদাকে। তাদের এই পথচলার কারণ, স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ এবং বেহাল রাস্তার জন্য সরাসরি মন্ত্রীদের সামনে বিক্ষোভ।

বিক্ষোভের মুখে দুই মন্ত্রী

এদিন সকালে ঝাড়গ্রামের বাঁধগোড়া প্রাথমিক স্কুলের শিবিরে গিয়ে গ্রামবাসীদের থেকে পানীয় জল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সমস্যার কথা শোনেন মন্ত্রীরা। এরপর দুপুরে যখন তারা বিনপুর ১ ব্লকের দহিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁদরবনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছান, তখনই গ্রামের মানুষ তাদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। গ্রামবাসীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, কেন্দডাংরি থেকে বাঁদরবনী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচশো মিটার রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই রাস্তাটি এককথায় কাদা আর জলময় একটি মাঠে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাইকেল বা মোটরবাইক চালানো তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই কঠিন।

‘আবদার’ মেনে কাদাপথে হাঁটলেন মন্ত্রীরা

গ্রামবাসীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ দেখে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বারবার তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা মন্ত্রীদের কাছে ‘আবদার’ করেন যে তারা যেন নিজেরাই একবার এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে দেখেন। গ্রামবাসীদের কথায়, “আপনারা তো আজ নিজেরাও হাঁটলেন। আপনারাই বলুন, এই রাস্তায় কি চলাফেরা করা যায়?” পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত দুই মন্ত্রীকেই সেই কাদাপথে হাঁটতে হয়।

প্রশাসনের আশ্বাস

এই ঘটনার পর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মনোতোষ মাণ্ডি বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই আট লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ পাশ হয়ে গিয়েছে। গ্রামবাসীদের সব তথ্য এবং কাগজপত্রও দেখানো হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীদের এই কাদাপথে হাঁটার পর সত্যিই এই বেহাল রাস্তার ভাগ্য ফেরে কি না।