বিশেষ: ডেলিভারি বয়দের দিনে কত টাকা আয়-কী কী সুবিধা? পার্সেল ভেঙে গেলে কি হয়?

আজকাল অনলাইন শপিং খুব জনপ্রিয়। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে ডেলিভারি বয়দের। দিন-রাত তারা আমাদের জন্য পণ্য পৌঁছে দেন। কিন্তু এই কাজের পেছনে তাদের আয়, কাজের পদ্ধতি বা ঝুঁকি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। এই বিষয়গুলো জানতে আমরা অ্যামাজনের একজন ডেলিভারি বয় ধনঞ্জয়-এর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি নয়ডার বিভিন্ন এলাকায় পার্সেল ডেলিভারি করেন।
কীভাবে চাকরি পাওয়া যায়?
ধনঞ্জয় জানান, অ্যামাজনের ডেলিভারি বয় হতে হলে সরাসরি তাদের নয়ডার সেক্টর ৯৫-এর অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার পর যাচাইকরণ এবং তিন-চার দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণে গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার, ম্যাপ দেখে সঠিক রুটে যাওয়া এবং পার্সেল নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার পদ্ধতি শেখানো হয়।
আয় এবং কাজের ধরন
একজন ডেলিভারি বয় প্রতি পার্সেল ডেলিভারির জন্য ১২ টাকা পান। কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১০০টির বেশি পার্সেল দেওয়া যায়, তবে সাধারণত একজন ডেলিভারি বয় দিনে প্রায় ৮০টি পার্সেল ডেলিভারি করেন। কোম্পানি তাদের কাজের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে পার্সেল দেয়। মাইন্ত্রার ডেলিভারি পার্টনার করণ জানান, তিনি প্রতি পার্সেলের জন্য ১৪ টাকা পান এবং মাঝে মাঝে ইনসেন্টিভ সহ তা ১৬ টাকা পর্যন্তও হয়।
যদি পার্সেল ভেঙে যায় বা হারিয়ে যায়?
এই কাজের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির দিক হলো পণ্যের ক্ষতি। ধনঞ্জয় জানান, ডেলিভারির সময় যদি কোনো পার্সেল ভেঙে যায় বা হারিয়ে যায়, তবে ডেলিভারি বয়কে তার পুরো ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। যেমন, যদি ৮০০ টাকার কোনো জিনিস হারিয়ে যায়, তাহলে সেই টাকা তাকেই কোম্পানিকে দিতে হবে। তবে যদি তিনি পার্সেল নেওয়ার সময়ই বুঝতে পারেন যে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত, তাহলে তিনি সেটা ফেরত দিয়ে দিতে পারেন।
বেতন নয়, প্রতিটি পার্সেলে আয়; তবে কি বিমা আছে?
এই কাজের আয়ের ধরনটা হলো, এখানে কোনো নির্দিষ্ট বেতন নেই। প্রতিটি পার্সেল ডেলিভারি করার জন্য তারা টাকা পান। তবে, কোম্পানি তাদের বিমার সুবিধা দেয়। অ্যামাজন তার ডেলিভারি পার্টনারদের জন্য দুর্ঘটনা বিমা করে থাকে, যা বিশেষত বাইক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে। নয়ডার অ্যামাজন অফিসে প্রায় ৩৭২ জন ডেলিভারি বয় কাজ করেন।