“৩০ দিন জেলে থাকলেই পদ যাবে”-জেনেনিন দেশের কতজন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কতগুলি মামলা?

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে এসেছে নতুন ‘সংবিধান সংশোধনী বিল’। এই বিল অনুযায়ী, দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো মন্ত্রী যদি কোনো অপরাধে ৩০ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকেন, তাহলে অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই বিল নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি চেষ্টা। বর্তমানে বিলটি সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে আছে।

বিলের সারমর্ম

এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা। এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে তখনই পদ থেকে সরানো হতো, যখন তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হতো। কিন্তু এই নতুন বিলটি পাশ হলে ৩০ দিন জেলবন্দী থাকলেই পদত্যাগ করতে হবে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

কোন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কত মামলা?

দেশের বর্তমান ৩০ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১২ জনের (৪০%) বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা আছে।

  • তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ৮৯টি মামলা রয়েছে।
  • তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে আছে ৪৭টি মামলা।
  • অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে ১৯টি এবং কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে।
  • এছাড়াও ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর বিরুদ্ধে ৫টি এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং-এর বিরুদ্ধে ৪টি করে মামলা আছে।
  • কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন দুটি এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান একটি মামলার তথ্য দিয়েছেন।

এই তথ্যগুলি অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR) নামের একটি সংস্থা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, এই ১২ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধেই গুরুতর ফৌজদারি মামলা আছে।

মোদী মন্ত্রিসভারও একই অবস্থা

শুধু বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীরাই নন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর তৃতীয় মন্ত্রিসভার ৭১ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা আছে। এই তালিকায় বাংলার দুজন মন্ত্রীও আছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিল নিয়ে বলেছেন, “যদি ৫০ ঘণ্টা জেলে থাকলেই ক্লার্ক, পিওনের চাকরি যায়, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে কেন নয়?”