“দনবাস ছাড়ো, ন্যাটোকে ভুলে যাও”- ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন শর্ত দিলেন পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন কিছু শর্ত দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এই নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে, যা যুদ্ধের অবসানের একটি নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
পুতিনের নতুন প্রস্তাব কী?
রয়টার্স-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইউক্রেনের কাছে তিনটি প্রধান দাবি তুলেছেন:
১. দনবাস সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে হবে: পুতিন চান ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিক।
২. ন্যাটোতে যোগদানের লক্ষ্য ত্যাগ: ইউক্রেনকে তার সংবিধান থেকে ন্যাটোতে যোগদানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাদ দিতে হবে এবং ন্যাটোকেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না।
৩. পশ্চিমা সেনা মোতায়েন নিষিদ্ধ: ইউক্রেনে কোনো পশ্চিমা সেনা বা শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা যাবে না।
আগে পুতিন চারটি প্রদেশ (দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং জাপোরিঝঝিয়া) চেয়েছিলেন, কিন্তু এবার তিনি খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ার কিছু অংশ নিয়ে সমঝোতা করতে রাজি হয়েছেন। তবে দনবাস নিয়ে তার অবস্থান কঠোর।
ট্রাম্পের সঙ্গে গোপন বৈঠক
১৫ আগস্ট আলাস্কায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পর পুতিন জানান, এটি শান্তির পথ খুলে দিতে পারে। ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরছেন এবং তিনি এই ‘রক্তক্ষয়ী হত্যাযজ্ঞ’ বন্ধ করতে চান। ট্রাম্প পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনেরও উদ্যোগ নিয়েছেন।
ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ড ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেছেন, দনবাস ইউক্রেনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষার অংশ এবং এটি ছেড়ে দিলে দেশের টিকে থাকা কঠিন হবে। ন্যাটোতে যোগ দেওয়া তাদের সাংবিধানিক লক্ষ্য এবং রাশিয়ার চাপে তা পরিবর্তন হবে না।
এদিকে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে পুতিন সত্যিই যুদ্ধ শেষ করতে চান কি না।
রাশিয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, যদি কিয়েভ দনবাস ছেড়ে দিতে রাজি না হয়, তাহলে যুদ্ধ চলতেই থাকবে। শান্তি বা যুদ্ধ— এই দুই পথ ছাড়া আর কিছু নেই।