‘সরকারি কর্মী 50 ঘণ্টা জেলে থাকলে সাসপেন্ড, প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী নয় কেন ?’-কটাক্ষ মোদির

বিহারের গয়ায় একটি জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতি নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাধারণ সরকারি কর্মী ৫০ ঘণ্টা জেলে থাকলে তার চাকরি চলে যায়, কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী কেন পদে থাকতে পারবেন?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় তিনটি সংশোধনী বিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে একটিতে বলা হয়েছে— কোনো মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধে ৩০ দিন জেলে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাকে পদ থেকে সরানো হবে। এই বিলের বিরুদ্ধে বিরোধীরা তুমুল হইচই করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এই প্রসঙ্গে বলেন, “আরজেডি, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলো এই আইনের বিরোধিতা করছে। ওরা ভয় পাচ্ছে কারণ ওদের মনে হচ্ছে, এই আইন এলে ওরা জেলে যাবে এবং সব স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এই আইন জনগণের স্বার্থে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ১১ বছরের সরকারে কোনো দুর্নীতির কালো দাগ নেই। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী জেলে থেকে ফাইল সই করেছেন এবং সরকারি নির্দেশ দিয়েছেন। নেতাদের এমন মনোভাব থাকলে আমরা দুর্নীতি দূর করব কীভাবে?”

মোদী আরও বলেন, “একজন কেরানি সামান্য সময়ের জন্য জেলে থাকলে তাকে সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু আমরা যখন দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও পদ থেকে সরানোর জন্য কঠোর আইন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন আরজেডি, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলো ক্ষুব্ধ হচ্ছে।”


অনুপ্রবেশের সমস্যা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী মোদী কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সম্পদ অনুপ্রবেশকারীরা নিয়ে নেবে— এটা হতে পারে না। কংগ্রেস ও আরজেডিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “তারা তাদের ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে এই অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে চায়।”

মোদী বিহারের উন্নয়নের জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্পের সূচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান, মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার এবং স্থানীয় সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাঝি উপস্থিত ছিলেন। তিনি গয়া থেকে দিল্লিগামী অমৃত ভারত এক্সপ্রেসেরও উদ্বোধন করেন।