“দিদিকে না বলতে পারব না…”, ২০২৬ -এ রাজনীতির ময়দানে কি ফিরছেন নুসরত জাহান?

ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাজনীতি, বারবারই বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন অভিনেত্রী-রাজনীতিবিদ নুসরত জাহান। দুর্নীতির অভিযোগের পর রাজনৈতিকভাবে কিছুটা নীরব থাকলেও, এবার রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও ভোটে লড়তে চান।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পক্ষ থেকে টিকিট পাননি নুসরত। এরপর থেকে তিনি রাজনীতি নিয়ে তেমন কোনো মন্তব্য করেননি। এই নীরবতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি যা-ই বলি, মানুষ তার অন্যরকম ব্যাখ্যা করে। মানুষ অন্যের সমস্যা দেখলে মজা পায়।” তবে এখন তিনি অনেক বদলে গেছেন এবং বিতর্ককে পাত্তা দেন না বলেও জানান।
নুসরত জাহান স্পষ্ট করে বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে সরে এসেছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ঠিক ছয় মাস আগে আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আনা হলো। বলা হলো, আমি মানুষকে ঠকিয়েছি! আমি এই রেষারেষির মধ্যে আর থাকতে চাইনি। পুরো পরিস্থিতিটা একা সামলেছি।”
তিনি আরও বলেন, যখন তাঁর ছেলে ঈশান ছোট ছিল, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন, কারণ তিনি চাননি তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রভাব ছেলের ওপর পড়ুক।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০১৭ সালে টাকা ফেরত দেওয়ার পর ২০২৩ সালে হঠাৎ আমার দিকে আঙুল তোলা হলো কেন? আমার কাগজপত্র সব ঠিক ছিল। যারা সরাসরি যুক্ত, তাদের কোনোদিন ডাক আসে না।” তিনি জানান, এই পরিস্থিতি তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
নুসরত বলেন যে, তিনি যদি আবারও ভোটে লড়ার সুযোগ পান, তাহলে তিনি রাজি হবেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূল ডাকবে, না বিজেপি ডাকবে আমি জানি না। ডাক এলে কী করব সেটাও জানি না।” তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে তার আসার মূল কারণ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা করেন। তিনি জানান, “দিদিকে কখনও ‘না’ বলতে পারব না।”