অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া বার্তা মোদীর, বিহারের জনসভায় তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী

বিহারের পাটনায় এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং রাজ্যের জনসংখ্যা বিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি এই সমস্যার জন্য বিরোধী দল, বিশেষ করে কংগ্রেস ও আরজেডি-কে দায়ী করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, “দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলো অবৈধ অনুপ্রবেশ। বিশেষ করে বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনসংখ্যার বিন্যাস খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু রাজনৈতিক দল এই অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করছে এবং এর ফলে বিহারের তরুণদের কর্মসংস্থান নষ্ট হচ্ছে। মোদী আরও বলেন যে, এনডিএ সরকার কোনোভাবেই অবৈধ অভিবাসীদের দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে দেবে না।

এই সমস্যার সমাধানে তিনি একটি ‘জনসংখ্যাতাত্ত্বিক মিশন’ শুরু করার প্রস্তাব দেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দেওয়া হবে। তিনি বিহারের মানুষকে কংগ্রেস ও আরজেডি-র মতো দলগুলোকে চিনতে বলেন, যারা নিজেদের ভোটব্যাংক বাড়ানোর জন্য এই অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস এবং আরজেডি বিহারের জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে চায় এবং তুষ্টির জন্য অভিবাসীদের হাতে তুলে দিতে চায়।” তিনি লালু প্রসাদ যাদবের দল আরজেডি-কে কটাক্ষ করে বলেন যে, তাদের শাসনামলে পুরো রাজ্য অন্ধকারে ডুবে ছিল, কোনো শিক্ষা বা কর্মসংস্থান ছিল না। তিনি বলেন, আরজেডি বিহারের মানুষকে শুধু ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে।

একইভাবে, তিনি কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন এবং বলেন যে, কংগ্রেস বিহারের জনগণের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় এক কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি বিহারের মানুষকে তাঁর রাজ্যে ঢুকতে দেবেন না।

মোদী বলেন, “এনডিএ সরকার বিহারের যুবকদের জন্য রাজ্যে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করছে, যাতে তারা সম্মান পায় এবং নিজেদের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বিহারের ঐতিহ্য ও বীরত্বের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, “বিহার হল চাণক্য এবং চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের ভূমি। এই পবিত্র ভূমিতে নেওয়া প্রতিটি সংকল্পই দেশের শক্তি।”