“জেলে গিয়েও পদ আঁকড়ে…”-অভিযুক্ত মন্ত্রীদের সরানোর নতুন বিল নিয়ে কী বললেন PK?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার লোকসভায় একটি নতুন বিল পেশ করেছেন, যা নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই বিল অনুযায়ী, যদি কোনো প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী গুরুতর অপরাধের অভিযোগে টানা ৩০ দিন জেল হেফাজতে থাকেন, তাহলে তাকে পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।
বিলটিতে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন কোনো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকে যার জন্য পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে, এবং তিনি যদি টানা ৩০ দিন জেলবন্দী থাকেন, তাহলে ৩১ দিনের মাথায় তাকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, একজন মন্ত্রীকে পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা যায় না যতক্ষণ না আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করছে।
সম্প্রতি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও জেল থেকে সরকার চালাচ্ছিলেন, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।
পক্ষে ও বিপক্ষে রাজনৈতিক মত
- প্রশান্ত কিশোরের সমর্থন: প্রাক্তন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর এই বিলের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “নেতা-মন্ত্রীরা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়বেন যে তাঁদের জেলে যেতে হবে, এটা হয়তো সংবিধান প্রণেতারা ভাবতেও পারেননি।” তার মতে, এই বিলটি খুবই ভালো, কারণ একজন অভিযুক্ত নেতা অন্তত জেল থেকে সরকার চালাতে পারবেন না।
- বিরোধী দলের বিরোধিতা: অন্যদিকে, বিরোধীরা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলকে ‘গণতন্ত্রের ওপর হিটলারি আঘাত’ বলে কটাক্ষ করেছেন। কংগ্রেস এবং আরজেডি-এর মতো দলগুলোও এই বিলের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিল পাস হলে ভবিষ্যতে কোনো মন্ত্রী অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হলে, তার পক্ষে পদ ধরে রাখা অসম্ভব হবে।