ভারত এখন পারমাণবিক পরাশক্তি! অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা, আতঙ্কে কাঁপছে পাকিস্তান

ভারত তার সবচেয়ে উন্নত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র, ‘অগ্নি-৫’-এর সফল পরীক্ষা করেছে। বুধবার ওড়িশার চাঁদিপুরে এই পরীক্ষা করা হয়, যা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিরাট মাইলফলক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণটি সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করেছে। ভারতের এই নতুন সাফল্য পাকিস্তানকে প্রবল উদ্বেগে ফেলেছে।
কী এই অগ্নি-৫?
অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)। এটি এখন এমআইআরভি (MIRV) প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত। এর অর্থ হলো, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি উৎক্ষেপণেই বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক পারমাণবিক বোমা বা ওয়ারহেড বহন এবং নিক্ষেপ করতে পারে।
দৈর্ঘ্য ও ওজন: প্রায় সাড়ে ১৭ মিটার লম্বা এবং ৫০ হাজার কিলোগ্রাম ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দেড় হাজার কিলোগ্রাম ওজনের পরমাণু বা অ-পরমাণু অস্ত্র বহন করতে পারে।
পাল্লা: এর ঘোষিত পাল্লা ৫,০০০ কিলোমিটার। তবে সূত্র বলছে, ডিআরডিও এর পাল্লা বাড়িয়ে ৭,৫০০ কিলোমিটার করার কাজ করছে। এই পাল্লার ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় পুরো এশিয়া, এমনকি উত্তর চীন এবং ইউরোপের কিছু অংশেও আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রযুক্তি: অগ্নি-৫ একটি ত্রিস্তরীয় কঠিন-জ্বালানি ব্যবস্থা দিয়ে চলে। এটি ভ্রাম্যমাণ প্ল্যাটফর্ম থেকেও উৎক্ষেপণ করা যায়। এতে উন্নত দিক নির্দেশ ব্যবস্থা রয়েছে, যা ভারতের নিজস্ব ন্যাভিক (NavIC) এবং আমেরিকান জিপিএস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। এর ফলে এটি দীর্ঘ দূরত্বেও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।
পাকিস্তানের উদ্বেগ
অগ্নি-৫-এর এই সফল পরীক্ষা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্ট্র্যাটেজিক ভিশন ইনস্টিটিউট (এসভিআই) তাদের সরকার এবং সামরিক প্রধানকে সতর্ক করে বলেছে যে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘মারাত্মক বিপদ’ তৈরি করছে।
এসভিআই জানিয়েছে, ভারত ২০১৬ সালে মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজাইম (MTCR)-এ যোগ দেওয়ার পর থেকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন আরও দ্রুত হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতে ভারতের অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৮,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা মস্কো, ওয়াশিংটন এবং বেজিংয়ের মতো শহরগুলোকেও এর আওতায় নিয়ে আসবে।
এসভিআই আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং কূটনৈতিক উপায়ে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।