মহিলাদের নাইট ডিউটি নিয়ে মতামত চায় রাজ্য, জেনেনিন কি বলছে কেন্দ্র?

কল-কারখানা এবং দোকানে রাতে মহিলাদের কাজ করানো উচিত কি না, তা নিয়ে আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্র সরকার চায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে মহিলাদের নাইট শিফটে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হোক। যদিও এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
আইন কী বলছে?
এখনও পর্যন্ত আইন অনুযায়ী, রাত ৮টার পর দোকান বা কারখানায় মহিলাদের কাজ করানো যাবে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছায় বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই নিয়ম পরিবর্তন করে মহিলাদের নাইট শিফট চালু করা হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গও এই বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলির আপত্তি
গত ১২ই অগাস্ট রাজ্য সরকার শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে একটি বৈঠক করে। সেখানে বেশিরভাগ সংগঠনই তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে।
- এআইইউটিইউসি: এই সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস বলেন, বর্তমান সমাজে নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। এই অবস্থায় মহিলাদের রাতে কাজ করতে পাঠানো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, নারী-পুরুষের সমান অধিকারে তারা বিশ্বাসী, কিন্তু নিরাপত্তার অভাব থাকলে রাতে কাজ করানো উচিত নয়।
- সিটু: সিটু-র রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু বলেন, এই দাবি কোনো শ্রমিক বা মহিলা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে আসেনি, বরং এটি মালিকপক্ষের উদ্যোগ। তারা রাজ্য সরকারের কাছে একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছেন এবং তারপরেই তাদের চূড়ান্ত মতামত জানাবেন।
এই সংগঠনগুলো আরও প্রশ্ন তুলেছে যে, যখন পুরানো আইনে (ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্ট ১৯৪৮ এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল শপস অ্যান্ড এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৬৩) মহিলাদের রাতে কাজ নিষিদ্ধ ছিল, তখন কেন নতুন আইন আনা হচ্ছে?
রাজ্যের নতুন নির্দেশিকা
এই বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে:
- কোনো মহিলাকে জোর করে নাইট শিফটে কাজ করানো যাবে না।
- লিখিত সম্মতি ছাড়া তাদের রাতে ডিউটি দেওয়া যাবে না।
- কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষকে সিসিটিভি ও জিপিএস-যুক্ত গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে।
- অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মহিলা সুপারভাইজার রাখতে হবে।
মহিলাদের একাংশের মত
যদিও কর্মরত মহিলাদের একটি বড় অংশ এই পরিবর্তনের পক্ষে। তাদের বক্তব্য, এখনকার দিনে মহিলারা সব কাজেই পুরুষের সমান। যদি যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তবে রাতে কাজ করতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আইটি সেক্টরসহ কিছু বেসরকারি ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই মহিলারা কলকাতায় নাইট শিফটে কাজ করছেন। তাই, যদি ভালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, তাহলে নাইট শিফটে কাজ করতে তারা প্রস্তুত।