গত বছরের চেয়েও ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি, প্রশ্ন উঠছে নজরদারি নিয়ে

বছরের শুরু থেকেই বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। এই বছরের ২০শে অগস্ট পর্যন্ত ৯১ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর এই সংখ্যাটা ছিল ৫১। বিধাননগর পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সল্টলেকের চেয়ে রাজারহাট, বাগুইআটি এবং কেষ্টপুরে ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।

ডেঙ্গি বাড়ার কারণ কী?

পতঙ্গবিদদের মতে, জুলাইয়ের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ডেঙ্গির সিজ়ন চলে। এই বছর ডেঙ্গি শুরুর দিকেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিধাননগর পুরনিগম তাদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। যেখানেই আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই বিশেষ দল পাঠিয়ে মশা মারার তেল স্প্রে করা হচ্ছে। এমনকি, আক্রান্তের বাড়ির সদস্য এবং প্রতিবেশীদেরও রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে বাসিন্দাদের একাংশ পুরনিগমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, বন্ধ বাড়ি বা ফাঁকা জায়গাগুলিতে নজরদারি নেই, আর সেখানেই মশা জন্ম নিচ্ছে।

প্রশাসন ও বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ

পুরকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, বছরের শুরু থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমা জলের খোঁজে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে দেখা যাচ্ছে, প্রতি দশটি বাড়ির মধ্যে অন্তত চারটিতেই ছাদ, ফুলদানি বা ফ্রিজের ট্রে-তে জল জমে আছে।

মেয়র পরিষদ বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু লাগাতার প্রচারের পরেও বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে। সবাই সচেতন না হলে ডেঙ্গির প্রকোপ কমানো সম্ভব নয়।”

পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসও একই কথা বলেছেন। তিনি জানান, মাত্র এক চামচ জলেই ডেঙ্গির মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তাই সপ্তাহে একবার অন্তত জল পরিষ্কার করা জরুরি। ডেঙ্গি প্রতিরোধের মূল মন্ত্র হলো পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা। তাই শুধু প্রশাসনের ওপর দোষ চাপলে হবে না, নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে।