স্বস্তির বদলে কি ঝক্কি? হাওড়া-সল্টলেক রুটে এবার সরাসরি মেট্রো, সুবিধা ও সমস্যা দুটোই
August 21, 2025

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে শুক্রবার কলকাতার মেট্রো পরিষেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। তিনটি নতুন মেট্রো লাইনের উদ্বোধনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো (গ্রিন লাইন)-এর সম্পূর্ণ চালু হওয়া। এর ফলে গঙ্গার তলা দিয়ে এখন সরাসরি হাওড়া থেকে সল্টলেক পর্যন্ত মেট্রো ছুটবে।
এই নতুন রুটে একদিকে যেমন বহু মানুষ সুবিধা পাবেন, অন্যদিকে কিছু মানুষের রুজি-রোজগারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
হাওড়া-সল্টলেক মেট্রোর সুবিধা
- দ্রুত যাতায়াত: এখন হাওড়া থেকে শিয়ালদহ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১১ মিনিট। আর হাওড়া থেকে সরাসরি সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ৩৫ মিনিট, যার খরচ পড়বে ৩০ টাকা। আগে এই পথে বাসে করে যেতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগতো।
- ডানকুনির যাত্রীদের সুবিধা: ডানকুনি থেকে যে সমস্ত মানুষ প্রতিদিন সল্টলেক সেক্টর ফাইভে কাজ করতে যেতেন, তাদের জন্য এই পরিষেবা খুবই সুবিধাজনক হবে। এখন শিয়ালদহ থেকে মেট্রো চালু হওয়ায় বিধাননগর স্টেশন থেকে বাস বা অটো ধরার ভিড় কমবে।
- ট্রেন যাত্রীদের সুবিধা: হাওড়া মেন ও কর্ড লাইনের যাত্রীরা যারা সল্টলেক সেক্টর ফাইভে কাজ করেন, তাদের জন্য এই মেট্রো এক বিশাল স্বস্তি এনে দেবে। আগে তাদের বালি হল্টে নেমে বাস বা শাটল গাড়িতে করে যেতে হতো, যা খুবই সময়সাপেক্ষ ছিল। এখন সেই ঝক্কি আর থাকবে না।
কারা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন?
- বাস ও শাটল গাড়ি: হাওড়া থেকে সল্টলেক পর্যন্ত যে সমস্ত বাস চলাচল করে, তাদের ব্যবসা মার খেতে পারে। একইসাথে, বালি হল্ট এবং বালি খালের কাছে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শাটল গাড়িগুলোর রুটি-রোজগারেও বড় প্রভাব পড়বে। মানুষ সময় ও টাকা বাঁচানোর জন্য মেট্রোকেই বেছে নেবে।
- অটো রুট: সল্টলেক সেক্টর ফাইভ মেট্রো স্টেশনের আশেপাশে যে অটো চলে, তাদের সংখ্যা কম হলেও এই নতুন পরিষেবা চালু হলে তাদের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই রুট পুরোপুরি চালু হলে এখনকার মতো বাসের উপর নির্ভরশীলতা কমবে।
সব মিলিয়ে, এই নতুন মেট্রো রুট কলকাতার যাতায়াত ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন আনবে, যা একদিকে যেমন যাত্রীদের জীবন সহজ করবে, অন্যদিকে কিছু পুরোনো ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।