‘উনি টাকা দিয়ে ব্যাপারটা রফা করার চেষ্টা করেছিলেন’- দাবি তিলোত্তমার মায়ের, ফোন খুলে চ্যাট দেখালেন বাবা

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং তিলোত্তমার মা-বাবার মধ্যেকার দ্বন্দ্ব এখন চরমে। একজন পাঠিয়েছেন মানহানির নোটিশ, আর অন্যজন বলছেন, “লড়ে নেব।” কুণাল ঘোষের অভিযোগ, তিলোত্তমার মা-বাবা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পাল্টা তিলোত্তমার মা-বাবার দাবি, কুণাল ঘোষ তাঁদের টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন।
তিলোত্তমার মা-বাবার পাল্টা অভিযোগ
বুধবার কুণাল ঘোষ মানহানির নোটিশ পাঠানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিলোত্তমার মা-বাবা। তিলোত্তমার মা বলেন, কুণাল ঘোষের “মন আছে বলে মনে করি না।” তাঁরা আরও বলেন, কুণাল ঘোষ সিবিআই-এর কাছে ‘সেটিং’ করতে গিয়েছিলেন। এই বিষয়ে তদন্ত হোক, এমন দাবিও জানান তাঁরা।
এরপর তিলোত্তমার মা আরও মারাত্মক অভিযোগ করেন: “উনি আমাদের সঙ্গে টাকা দিয়ে ব্যাপারটা রফা করার চেষ্টা করেছিলেন।” যদিও তিনি জানান, কুণাল ঘোষ তাঁদের বাড়িতে আসেননি, কিন্তু ফোন করে নাকি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এই প্রসঙ্গে তিলোত্তমার বাবা তাঁর ফোন থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখান, যেখানে ‘TMC Kunal Ghosh’ নাম লেখা ছিল। তিনি বলেন, কুণাল ঘোষ তাঁদের নানা ধরনের মেসেজ পাঠাতেন এবং পরামর্শ দিতেন। তবে টাকা দিয়ে রফার চেষ্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই সময়ের হোয়াটসঅ্যাপ কলটি রেকর্ড করা নেই, তাই এই নিয়ে তিনি কিছু বলবেন না।
এছাড়াও তিলোত্তমার বাবা আরও একটি ভিডিও দেখান, যা তিনি দাবি করেন যে কুণাল ঘোষই তাঁকে পাঠিয়েছিলেন। সেই ভিডিও দেখে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া: “সব প্রমাণ বিচারককে দেখান”
তিলোত্তমার মা-বাবার অভিযোগের জবাবে কুণাল ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তিলোত্তমার বাবা আমায় আক্রমণ করেছেন। বলেছেন, আমি নাকি ফোন করে রফার চেষ্টা করতাম। এতদিন বাদে বলছেন?” তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি হাত জোড় করে তিলোত্তমার বাবাকে বলছি, আপনার কাছে সমন যাবে। কোর্টে এসে দয়া করে এগুলো একটু মাননীয় বিচারককে দিন।” তিনি আরও বলেন, রহস্য না বাড়িয়ে সব হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও মেসেজ তিনি যেন সাংবাদিকদের প্রিন্ট আউট করে দেখান।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “মানুষ আমায় ভালোবাসে। এগুলো দেখে মানুষ বুঝবে কুণাল ঘোষ কী লিখতে পারে।” তিনি জানান, তিলোত্তমার মৃত্যুর ওপর দাঁড়িয়ে নিজের সম্মান বাড়াতে চাননি বলেই তিনি এই চ্যাটগুলো এতদিন প্রকাশ করেননি।