WhatsApp-এর মাধ্যমে আয় করার ৫ উপায়, জেনেনিন কিভাবে করবেন?

বিশ্বজুড়ে কয়েকশো কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এটি কেবল ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা ফাইল আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি এখন আয়েরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সরাসরি বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার সুযোগ না থাকলেও, কিছু ভিন্ন পদ্ধতিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

হোয়াটসঅ্যাপ থেকে আয়ের বিভিন্ন উপায়

১. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: এটি হোয়াটসঅ্যাপ থেকে অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি। অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্টের মতো বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে আপনি তাদের পণ্যের লিঙ্ক আপনার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা স্ট্যাটাসে শেয়ার করতে পারেন। যখন কোনো ব্যবহারকারী সেই লিঙ্কের মাধ্যমে পণ্য কেনেন, তখন আপনি একটি নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন।

২. পেইড হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ: আপনি যদি কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হন, তাহলে সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে একটি পেইড কমিউনিটি বা গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। এই গ্রুপে সদস্যরা যোগ দিতে হলে একটি সাবস্ক্রিপশন ফি নিতে পারেন। এখানে আপনি সদস্যদেরকে বিশেষ কনটেন্ট, পরামর্শ বা টিপস দিতে পারেন। এটি আপনার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করার একটি কার্যকর উপায়।

৩. অ্যাপ রেফারেল: অনেক অ্যাপ তাদের ব্যবহারকারী বাড়ানোর জন্য রেফারেল প্রোগ্রাম চালায়। আপনি এমন অ্যাপগুলোর রেফারেল লিঙ্ক আপনার বন্ধু, পরিবার বা গ্রুপে শেয়ার করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যখন কেউ আপনার লিঙ্ক থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে, তখন আপনি রেফারেল পুরস্কার হিসেবে ভালো অঙ্কের টাকা পেতে পারেন।

৪. পণ্য বিক্রি করে লাভ: যদি আপনার কোনো নিজস্ব পণ্য থাকে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপ একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্যের একটি ক্যাটালগ তৈরি করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। নিয়মিত স্ট্যাটাস আপডেট বা সম্প্রচার বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে নতুন পণ্য বা অফার সম্পর্কে জানাতে পারেন।

৫. হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল: হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল থেকে সরাসরি ভিডিও বা বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা যায় না। তবে এই চ্যানেলকে কাজে লাগিয়ে পরোক্ষভাবে উপার্জন করা সম্ভব।

  • নিজস্ব পণ্য বিক্রি: আপনার নিজের কোনো পণ্য বা সেবা (যেমন: পোশাক, কোর্স বা ডিজিটাল সার্ভিস) থাকলে চ্যানেলে সেগুলোর প্রচার করে বিক্রি করতে পারেন।
  • অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক: আপনি অ্যামাজন বা দারাজের মতো অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক শেয়ার করতে পারেন। কোনো ব্যবহারকারী সেই লিঙ্কে ক্লিক করে কিছু কিনলে আপনি কমিশন পাবেন।
  • স্পনসরড কনটেন্ট: আপনার চ্যানেলে যদি অনেক সাবস্ক্রাইবার থাকে, তাহলে বিভিন্ন ব্র্যান্ড বা ছোট ব্যবসা তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য আপনাকে স্পনসরশিপ দিতে পারে।
  • অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ট্রাফিক: আপনার চ্যানেল থেকে আপনার ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগ বা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে ট্রাফিক নিয়ে যেতে পারেন, যেখানে আপনি মনিটাইজেশন চালু রেখেছেন।

হোয়াটসঅ্যাপের এই বহুমুখী ব্যবহার এখন শুধু যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি হয়ে উঠেছে ডিজিটাল যুগে অর্থ উপার্জনের একটি নতুন এবং সহজ উপায়।