বিশেষ: ধন কুবের হলেও এই ৫ জায়গায় কখনও বাড়ি তৈরি করবেন না, নিষেধ করেছেন চাণক্য

নতুন বাড়ি কেনা বা তৈরি করা আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। কিন্তু অনেকেই এই সিদ্ধান্তের আগে বাস্তুশাস্ত্র বা চাণক্যের নীতির মতো প্রাচীন প্রজ্ঞার উপর ভিত্তি করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করেন না। আচার্য চাণক্য তার নীতি শাস্ত্রে এমন কিছু স্থান সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, যেখানে বাড়ি তৈরি করা বা বসবাস করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি বলেছেন যে এই ধরনের জায়গাগুলো কেবল বাড়ির বাসিন্দাদের জন্য নয়, বরং পুরো পরিবারের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক চাণক্যের মতে কোন পাঁচটি স্থানে বাড়ি করা উচিত নয়:
১. ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ: আচার্য চাণক্য বলেন, যে জায়গায় পা রাখার পর মনে ভয়, নিরাপত্তাহীনতা অথবা অস্থিরতা অনুভূত হয়, সেখানে বাড়ি তৈরি করা বা জমি কেনা উচিত নয়। এমন পরিবেশে বসবাস করলে পরিবারের সদস্যদের জন্য বিপদ আসতে পারে এবং মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।
২. আইন এবং সামাজিক নিয়ম-কানুনকে উপেক্ষা করে এমন জায়গা: যেখানে মানুষ আইন এবং সমাজের নিয়ম-কানুন মেনে চলে না, সেখানে বসবাস করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। চাণক্যের মতে, এমন সমাজে পরিবারের নিরাপত্তা এবং সম্মান বিরূপভাবে প্রভাবিত হয়। এই ধরনের জায়গায় সামাজিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা থাকে না, যা জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
৩. সম্মান এবং শিষ্টাচারের অভাব: এমন জায়গায় বাড়ি তৈরি করা থেকে বিরত থাকা উচিত, যেখানে মানুষের মধ্যে লজ্জা, সম্মান এবং শিষ্টাচারের অভাব রয়েছে। চাণক্য বলেছেন যে এমন পরিবেশে বসবাস করলে মানুষ কখনো সামাজিক মর্যাদা পায় না। এই ধরনের পরিবেশে শিশুদের বেড়ে ওঠাও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
৪. দানশীলতা ও ত্যাগের মনোভাবের অভাব: যেখানে মানুষ কেবল নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং ত্যাগ বা দানশীলতার কোনো মনোভাব নেই, সেখানে বসবাস করা উপযুক্ত নয়। চাণক্যের মতে, এমন পরিবেশে জীবন অস্থির ও চাপপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানব সম্পর্ক এখানে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়।
৫. জীবিকা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব: চাণক্য বলেছেন যে, যেখানে কর্মসংস্থান বা ব্যবসার কোনো সম্ভাবনা নেই, সেখানে বাড়ি তৈরি করা বা বসবাস করা ঠিক নয়। জীবিকা নির্বাহের উপায়ের অভাবে মানুষের জীবন কষ্টপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং আর্থিক সংকট দেখা দেয়। তাই বাড়ি কেনার আগে ওই এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করা খুবই জরুরি।
চাণক্যের এই নীতিগুলো আজও প্রাসঙ্গিক। একটি নিরাপদ, সুস্থ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য বাড়ি কেনার আগে এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।