মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে এবার ‘চরিত্রের পরীক্ষা’, ট্রাম্প সরকারের নতুন অভিবাসন নীতি

মার্কিন অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতা নিয়ে এলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য এবার নতুন নিয়মে ‘চরিত্রের পরীক্ষা’ যুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল, শুধুমাত্র ‘সেরা যোগ্যতাসম্পন্ন’ আবেদনকারীদেরই আমেরিকার নাগরিকত্ব প্রদান করা।

ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমেরিকার নাগরিকত্বকে ‘স্বর্ণালী মানদণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এটি পৃথিবীর সেরা মানুষদেরই পাওয়া উচিত। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র ন্যাথু ট্র্যাগেসার জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন আবেদনকারীকে শুধুমাত্র ইংরেজি ও নাগরিকত্বের পরীক্ষায় পাশ করলেই হবে না, তাকে আমেরিকার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভাষার প্রতি তার স্বাভাবিক আগ্রহ প্রমাণ করতে হবে। এর পাশাপাশি, তার ‘ভাল নৈতিক চরিত্রের’ সুস্পষ্ট প্রমাণও দিতে হবে।

নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, কেবল অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাই করে থেমে গেলে চলবে না। এখন থেকে অফিসাররা আবেদনকারীর আচরণ, সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলার প্রবণতা, এমনকি ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন বা কাউকে হেনস্থার মতো বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখবেন। এর মাধ্যমে আবেদনকারীর সামাজিক সম্পৃক্ততা, পরিবারের প্রতি যত্ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আইনসম্মত কর্মসংস্থান এবং সময়মতো কর প্রদানের মতো বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হবে।

অভিবাসন নিয়ে বরাবরই কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প সরকার এবার সরাসরি ‘চরিত্র’ যাচাইয়ের শর্ত নিয়ে এলো। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম বাতিল করা থেকে শুরু করে অভিবাসী বিতাড়নের মতো পদক্ষেপের পর ট্রাম্প অনুগামীরা দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার দাবি তুলে আসছিলেন। এই নতুন নিয়ম সেই দাবিকেই বাস্তব রূপ দিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই বিধি-নিয়ম উপযুক্ত কাগজপত্র ছাড়া দেশে প্রবেশ করা মানুষের জন্য নাগরিকত্বের পথ প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে।