বন্ধুর পরামর্শে ঘুরে দাঁড়ালেন পূর্ব বর্ধমানের সরস্বতী, ফুড ভ্যান বদলে দিল জীবন

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে করতে একসময় উনুন জ্বালাতে হিমশিম খেতেন, এমনকি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে খাবার জোগাড় করতে যেতে হতো আশ্রমে। সেই জীবনই এখন বদলে গেছে পূর্ব বর্ধমানের সরস্বতী দত্তের। এক বান্ধবীর কথায় ভরসা করে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করে আজ তিনি শুধু নিজের সংসারের অভাবই মেটাননি, হয়ে উঠেছেন অনেকের অনুপ্রেরণা।

২৮ বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করা সরস্বতী দত্তের জীবনে ব্যর্থতার গল্প ছিল অনেক। ভালোবেসে বিয়ে করার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা তাঁকে গ্রহণ করেনি। স্বামীর আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে সংসারের হাল ধরতে প্রথমে সেলাইয়ের কাজ এবং পরে বিউটিশিয়ান কোর্স করেও তিনি সফল হতে পারেননি। কিন্তু এক বন্ধুর দেওয়া পরামর্শ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নাট্যদলের কর্মীদের টিফিন সরবরাহ করার ছোট কাজ থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর নতুন পথচলা।

সেই কাজ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সাইকেলে করে রাস্তায় ঘুগনি এবং আলুর দম বিক্রি করা শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম আর হার না মানার মানসিকতা নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যান। আজ তার একটি নিজস্ব ফুড ভ্যান রয়েছে উল্লাস এলাকায়, যেখানে তিনি ১১ রকমের খাবার বিক্রি করেন। সবথেকে বড় কথা, এই যাত্রায় তার পাশে থেকেছেন তার বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে, যিনি এখন ব্যবসার কাজে মাকে সাহায্য করেন।

সরস্বতী দত্ত বলেন, “এই ভ্যানটি আমার স্বপ্নের গাড়ি, যা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এখন আমি আগের থেকে অনেক ভালো আছি।” তার এই অদম্য চেষ্টা, মনোবল এবং বন্ধুত্বের শক্তি প্রমাণ করে যে, সঠিক অনুপ্রেরণা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। তার এই জীবনকাহিনী এখন হাজারো মানুষকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।