Dream11-এর কি হবে উঠছে প্রশ্ন? নয়া অনলাইন গেমিং বিল নিয়ে যা যা জানা জরুরি?

অনলাইন গেমিংয়ের নামে দেশে যে জুয়ার রমরমা চলছে, তা বন্ধ করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার সংসদে পেশ হতে পারে একটি নতুন বিল, যার মাধ্যমে অনলাইন গেমিংয়ে টাকার লেনদেন এবং এর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হবে। এই বিলের নাম ‘প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’।
এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষকে অনলাইন জুয়ার ফাঁদ থেকে রক্ষা করা। বর্তমানে ‘টি-২০ কিংবা ওয়ান ডে ম্যাচ চলাকালীন’ টিভিতে প্রায়ই ‘কোটিপতি’ হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যে ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যায়, তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে। যদি কোনো গেমিং অ্যাপ এই নিয়ম ভাঙে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে জেল এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা অন্তর্ভুক্ত।
ই-স্পোর্টস এবং সোশ্যাল গেমিংয়ে উৎসাহ
তবে এই বিল সব ধরনের অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করছে না। জানা গেছে, অনলাইন সোশ্যাল গেম যেমন লুডো, ক্যান্ডি ক্রাশ এবং ই-স্পোর্টসকে উৎসাহ দেওয়া হবে। এর ফলে ভারতীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং গেমিং ইন্ডাস্ট্রির একটি ইতিবাচক বাজার গড়ে উঠবে, যেখানে জুয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
জেল এবং জরিমানার বিধান
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, যারা নিয়ম ভেঙে অনলাইন মানি গেমিং সার্ভিস চালাবে, তাদের তিন বছর পর্যন্ত জেল অথবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। বিজ্ঞাপন প্রচারকারীদের জন্য দু’বছর পর্যন্ত জেল অথবা ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। যারা বারবার এই আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রাখা হয়েছে। তবে যারা কেবল এই গেমগুলোতে টাকা বিনিয়োগ করে, তাদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং ভুক্তভোগী হিসেবে দেখা হবে।
এই বিল আনার পেছনে সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ক্রীড়া এবং গেমিং শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, একইসঙ্গে অনলাইন জুয়ার নেশা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা। অনেক মানুষ অনলাইন গেমিংয়ে টাকা হারিয়ে মানসিক অবসাদ এবং এমনকি আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিচ্ছে। এছাড়াও, এই ধরনের গেমিং অ্যাপগুলো প্রায়শই মানি লন্ডারিং এবং অন্যান্য বেআইনি কাজের জন্য ব্যবহৃত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, ড্রিম ১১-এর মতো জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি স্পোর্টস অ্যাপগুলোর কী হবে? যদিও সরাসরি এই বিষয়ে কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, যে অ্যাপগুলোতে টাকার লেনদেন হয় এবং যা জুয়াকে উৎসাহিত করে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাই ক্রিকেট বা অন্য খেলায় বাজি ধরে দল বানানোর এই প্রক্রিয়াটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।