“দিনমজুরের থেকেও কম, এই বেতনে আর চলছে না”, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিকাশ ভবন অভিযান প্যারাটিচারদের

২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগের দাবিতে রাজপথ উত্তাল হওয়ার পর এবার বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিকাশ ভবন অভিযানে নামলেন পার্শ্বশিক্ষক, শিক্ষাবন্ধু, স্পেশাল এডুকেটর, এবং এমএসকে-এসএসকে কর্মীরা। বুধবার এই অভিযানকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বেতনের দাবিতে আন্দোলন
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের পর থেকে সর্বশিক্ষা মিশনের পার্শ্বশিক্ষক-সহ শিক্ষাকর্মীদের বেতন এক টাকাও বাড়েনি। ২০২৪ সালের ১ মার্চ জারি হওয়া সরকারি আদেশনামা দ্রুত কার্যকর করার দাবিতেই তারা এই অভিযানে নেমেছেন।
বর্তমানে প্রাথমিকে পার্শ্বশিক্ষকরা পান ১০ হাজার টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিকে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন ১৪ হাজার টাকা। এছাড়া, শিক্ষাবন্ধুরা পান ৮ হাজার টাকা। এই কম বেতনে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
একজন এমএসসি পাশ শিক্ষিকা বলেন, “এখন যে টাকাটা পাই, তাতে কিছুই হয় না। যাতে একটু বেতন বৃদ্ধি করে রাজ্য সরকার, তাই এই অনুরোধ। আমরা কোনো আন্দোলনে নেই, আমরা আবেদন জানাচ্ছি। আসলে মুখ্যমন্ত্রীই বলেছিলেন, করে দেবেন, সেটা যাতে দ্রুত হয়, তারই আবেদন জমা দেব।”
আরেকজন পার্শ্বশিক্ষিকা বলেন, “আমরা তো এখন জনমজুরের থেকেও কম বেতনে কাজ করছি। এই বেতনে আর চলছে না।” তারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই বেতন বৃদ্ধি দ্রুত কার্যকর করা হয়, যাতে তারা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন।
এই ধারাবাহিক আন্দোলনগুলো পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে কর্মীদের অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরছে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।