“১১ মিনিটে হাওড়া-শিয়ালদা”-নতুন ৩ মেট্রোতে কোন স্টেশন যেতে কতক্ষণ লাগবে? জেনেনিন ভাড়াও

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ২২শে আগস্ট, শুক্রবার, কলকাতার মেট্রো পরিষেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। সেদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত মেট্রো লাইনের উদ্বোধন হবে, এবং একই দিনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য পরিষেবাও শুরু হয়ে যাবে। এর ফলে মোট ১৫.৬৬ কিলোমিটার পথে মেট্রো চলাচল শুরু হবে।
এই নতুন মেট্রো লাইনের মাধ্যমে হাওড়া ময়দান, হাওড়া স্টেশন, মহাকরণ, এসপ্ল্যানেড, শিয়ালদহ, ফুলবাগান, সল্টলেক স্টেডিয়াম, বেঙ্গল কেমিক্যাল, সিটি সেন্টার, সেন্ট্রাল পার্ক, করুণাময়ী এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ— এই ১২টি স্টেশন যুক্ত হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সড়কপথে হাওড়া থেকে শিয়ালদহ পৌঁছতে যেখানে ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে, সেখানে মেট্রোতে মাত্র ১১ মিনিটেই এই পথ অতিক্রম করা যাবে। একইভাবে, হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৩২ মিনিট, যা বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নেয়। এই নতুন সংযোগে যাত্রীদের যাতায়াত আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে।
ট্রেন চলাচলের সময় ও ভাড়া
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই রুটে ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৮ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। দিনের অন্যান্য সময়ে এই ব্যবধান ১০ থেকে ১৫ মিনিট হতে পারে। যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। ভাড়ার তালিকা আজ, বুধবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে, তবে প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী হাওড়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ভাড়া ২৫ টাকা হতে পারে।
অন্যান্য রুটেরও উদ্বোধন
২২শে আগস্ট শুধুমাত্র হাওড়া-সেক্টর ফাইভ রুটই নয়, আরও দুটি নতুন মেট্রো লাইনের উদ্বোধন হবে। এর মধ্যে একটি হলো নোয়াপাড়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত ৬.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রুট, যা কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত বিস্তৃত। জানা গেছে, নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর রুটে প্রতি ১৫ মিনিট এবং নিউ গড়িয়া-বেলেঘাটা রুটে প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর রুটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কলকাতা বিমানবন্দর মেট্রো স্টেশনটি হতে চলেছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সোমবার থেকে যাত্রীরা নোয়াপাড়া-এয়ারপোর্ট এবং রুবি-বেলেঘাটা অংশেও মেট্রোতে যাতায়াত করতে পারবেন। এই তিনটি নতুন রুটের উদ্বোধন কলকাতার গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।