লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বই! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২, তছনছ জনজীবন, জারি রেড অ্যালার্ট

টানা পাঁচ দিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বই পুরোপুরি বিপর্যস্ত। আবহাওয়া দপ্তর আজও, বুধবারের জন্য ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করে রেড অ্যালার্ট দিয়েছে। এই নিম্নচাপের ফলে মহারাষ্ট্রজুড়ে ভারী বৃষ্টির কারণে এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহর ও এর আশপাশের অনেক জেলা এখনো পানির নিচে ডুবে আছে, এবং শত শত হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ আগেই জানিয়েছিলেন, আজ ও আগামীকাল পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। আরব সাগরের ঢেউ প্রায় দোতলা বাড়ির সমান উচ্চতায় আছড়ে পড়ছে।

বিপর্যস্ত পরিষেবা ও সাধারণ জীবন
মুম্বইয়ে বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরতলীর ট্রেন ও বিমান পরিষেবা। কিছু যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন যে, ট্রেন পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার ও পৌরসভা স্কুল-কলেজ ও অফিস-কাছারিতে ছুটি ঘোষণা করেছে। শহরের বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। শুধু নিচু এলাকা নয়, উঁচু এলাকাতেও অনেক বাড়ি, হাসপাতাল ও কলেজের নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে। কোথাও কোথাও পানি মানুষের উচ্চতার সমান বইছে।

গণেশ চতুর্থীর আগে চরম ক্ষয়ক্ষতি
রাজ্যের বহু বাঁধের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে বাঁধের গেট খুলে দিতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যার ফলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। আর এক সপ্তাহ পরেই গণেশ চতুর্থী উৎসব। তার আগে এমন একটানা বৃষ্টিতে প্রতিমা শিল্পীদের মাথায় হাত পড়েছে। স্থানীয় কুমোরপাড়াগুলোতে পানি ঢুকে অনেক প্রতিমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দুটি অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা মনোরেল দুটি স্টেশনের মাঝখানে বিকল হয়ে যায়। অনেক চেষ্টার পর সেখান থেকে ৭৮২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বিদ্যুৎ এবং এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন এবং দুজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি ও আগামী দিনের পূর্বাভাস
এই পরিস্থিতিতে মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের বুধবারের সব পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে মুম্বই, থানে, পালঘর, রায়গড় এবং রত্নাগিরি জেলায় এখনো লাল সতর্কতা জারি আছে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি এবং ঝাপটার গতিবেগ ৬০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে।

তবে বুধবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় রাত ৩টা থেকে লোকাল ট্রেন ও বাস পরিষেবা ধীরে ধীরে চালু করা হয়েছে। সান্তাক্রুজ অবজারভেটরি জানিয়েছে, আজ সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গত ১১ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই প্রথম আগস্ট মাসে মুম্বইয়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হলো। গত ১০৮ ঘণ্টায় (১৫-১৯ আগস্ট) মুম্বইয়ে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৩৭.৩ মিলিমিটার এবং এই বর্ষা মৌসুমে মোট বৃষ্টিপাত ২,৩১০.৮ মিলিমিটার।