জেল খাটলেই যাবে মুখ্যমন্ত্রীদের পদ- ‘টেবিল ভাঙব-বিল ছিঁড়ব,’ কেন্দ্রের পদক্ষেপে ক্ষোভ বিরোধীদেড়

গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জনপ্রতিনিধিদের পদ থেকে অপসারণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রে নতুন বিল আনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও এই বিল কার্যকর হবে। এই বিলের প্রতিবাদে বুধবার থেকে সংসদের উভয় কক্ষেই তীব্র বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই বিলের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো একজোট হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) পোস্টে মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহার করার পর সরকার এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের নিশানা করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, এই বিলের উদ্দেশ্য হলো মিথ্যা অভিযোগে নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলোকে উৎখাত করা এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা। অভিষেক আরও বলেন, “বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে ভারতের সংবিধান এবং আত্মাকে বিক্রি করে দেওয়া।”
এদিকে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সরকারের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধীদের আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হয়েছে, কারণ বিজেপি মাত্র ২৪০ জন সাংসদ নিয়েই সংবিধান পরিবর্তন করতে চাইছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র ইডি এবং সিবিআই-কে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেফতার করবে এবং দোষী সাব্যস্ত না হওয়া সত্ত্বেও তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেবে। মহুয়া এই বিলকে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং বিচারব্যবস্থার উপর আঘাত বলে অভিহিত করেছেন।
বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় তিনটি বিল পেশ করবেন। এই বিলগুলো হলো— দ্য গভর্নমেন্ট অফ ইউনিয়ন টেরিটোরিস (সংশোধনী) বিল ২০২৫, দ্য কনস্টিটিউশন (১৩০তম সংশোধন) বিল ২০২৫, এবং জম্মু-কাশ্মীর রিঅর্গানাইজেশন (সংশোধনী) বিল ২০২৫।
এই বিলগুলো নিয়ে বিরোধী জোটের সদস্যরা মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে একটি জরুরি বৈঠক করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিরোধী সাংসদ ‘ইন্ডিয়া টুডে’কে জানিয়েছেন, এই ধরনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বিল লোকসভায় পেশ করতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে তারা টেবিল ভাঙবেন এবং বিল ছিঁড়ে দেবেন। এই পরিস্থিতি থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংসদ অধিবেশন নতুন করে উত্তপ্ত হতে চলেছে।