হু হু করে বাড়ছে ইঁদুর জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা! হাসপাতালে বাড়ছে ভিড়, বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতেই উল্টা জবাব তৃণমূলের

উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ এলাকার চেকরাম গ্রামসহ আশেপাশের অঞ্চলে ইঁদুর জ্বরের (লেপ্টোস্পাইরোসিস) সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। নতুন করে আরও ১৫ জন আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৩ থেকে বেড়ে ১৬৮-তে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জন্ডিস আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে, যা স্বাস্থ্য দপ্তরকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে।

হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে রোগীর ভিড় এতটাই বেড়েছে যে, এক বেডে একাধিক রোগীকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এমনকি অনেক রোগীকে মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য পরিষেবার করুণ দশাকে সামনে এনেছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো হাসপাতালের এই অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। বিজেপির প্রাক্তন জেলা সম্পাদক শ্যাম প্রসাদ এই পরিস্থিতির জন্য তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের দৈন্যদশা দেখে সবাই অবাক। একই বেডে দু’তিন জন রোগী থাকছে, মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।”

একইভাবে, সিপিএম-এর জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং জেলাশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। জেলা প্রশাসন যে অপদার্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাকে আমরা ধিক্কার জানাই।”

অন্যদিকে, তৃণমূল এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের পাশে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের জেলা সম্পাদক বিকাশ মালাকার বলেন, “রোগ কমছে। হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে। একটি বেডে একজন না দুজন আছে সেটা বড় কথা নয়, আসল কথা হলো তারা পরিষেবা পাচ্ছে।”

এই মুহূর্তে, আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা এবং রোগের বিস্তার রোধ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপানউতোর জনমনে আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।