‘রাজ্য সরকারকে ফেলতে সবরকম চেষ্টা’, ‘বন্দি’ মন্ত্রী সরাতে সংশোধনী বিল নিয়ে তুমুল কটাক্ষ অভিষেকের

জনপ্রতিনিধিদের গুরুতর ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হলে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ সংক্রান্ত নতুন বিল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। আর এই বিলের প্রস্তাবের পরই কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একাধিক পোস্ট করে তিনি কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে কেন্দ্র সরকারের বিদেশনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “বিরোধী দল এবং সমগ্র জাতির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকারের এখনও পিওকে পুনরুদ্ধার করার সাহস নেই। তারা কেবল ফাঁকা বক্তৃতা দেয়, কিন্তু যখন ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আমাদের সীমান্ত রক্ষা এবং আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে কাজ করার কথা আসে, তখন তারা কোনো প্রকৃত উদ্যোগ দেখায় না।”
তিনি আরও বলেন যে এই সরকার নিজেদেরকে “জনবিরোধী, কৃষকবিরোধী, গরিববিরোধী, তফসিলি জাতিবিরোধী, উপজাতিবিরোধী, ওবিসি-বিরোধী, ফেডারেলবিরোধী এবং সর্বোপরি ভারতবিরোধী” হিসেবে প্রমাণ করেছে। তাঁর মতে, কেন্দ্র দেশের সংবিধানকে বিক্রি করছে এবং দেশকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ভাবছে। অভিষেকের কথায়, কেন্দ্র সরকারের রাজ্য সরকারগুলোকে ভেঙে দেওয়ার প্রবণতাও এই বিলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আজ, বুধবার লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বিল অনুযায়ী, যদি প্রধানমন্ত্রী, কোনো মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে গ্রেফতার হন এবং টানা ৩০ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকেন, তবে এই আইন প্রযোজ্য হবে। যে অপরাধের জন্য ৫ বছরের বেশি কারাদণ্ডের বিধান আছে, সেই ধরনের ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর হবে। প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানাবেন এবং রাজ্যের ক্ষেত্রে রাজ্যপাল এই পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
The Union Government, despite having the support of the Opposition parties and the entire nation, still lacks the courage to reclaim PoJK. It beats its chest with hollow rhetoric, but when it comes to defending India’s sovereignty, protecting our borders and acting firmly against…
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) August 20, 2025
বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্র সিবিআই এবং ইডি-র মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী নেতাদের এবং মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিন জেলে রাখছে। এই বিলটি নির্বাচিত সরকার ভেঙে দেওয়ার একটি কৌশল বলে তারা মনে করছেন।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “একদিকে ভোট চুরি করে জেতার চেষ্টা করে। আর যে সব জায়গায় ভোট চুরির পরও জিততে পারে না, সেখানে সরকার চুরির চেষ্টা করে।”
অন্যদিকে, এই অভিযোগের জবাবে বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “চুরির ভোটে জিতে এসে, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কিছু বলা সাজে না।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের কাশ্মীর ভাবার অনেক লোক রয়েছে, তবে এ রাজ্যে যে ছোট ছোট কাশ্মীর রয়েছে, দিনহাটা, নানুর, ইলামবাজার, কালিয়াচক এগুলোকে শান্ত করুক।”