বিশেষ: পিতৃপক্ষের শুরুতেই চন্দ্রগ্রহণ, ৩ রাশির জাতকদের উপর পড়বে সরাসরি প্রভাব

ভারতের জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ঐতিহ্য অনুযায়ী, পিতৃপক্ষ এক গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল, যা পূর্বপুরুষদের সম্মান জানানোর জন্য উৎসর্গীকৃত। এই বছর পিতৃপক্ষ শুরু হচ্ছে ৭ই সেপ্টেম্বর, যা এক বিশেষ মহাজাগতিক ঘটনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। পিতৃপক্ষের প্রথম দিনেই ভারতে দেখা যাবে একটি পূর্ণিমা চন্দ্রগ্রহণ। এই চন্দ্রগ্রহণ কেবল একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতিতে এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এই চন্দ্রগ্রহণ ৭ই সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ২৭ মিনিটে শুরু হবে এবং ৮ই সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এই গ্রহণটি ভারত, চীন, রাশিয়া, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব আফ্রিকা এবং আরব দেশগুলি থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে।
সূতক কাল এবং ধর্মীয় প্রভাব
জ্যোতিষবিদদের মতে, চন্দ্রগ্রহণের ‘সুতক কাল’ গ্রহণ শুরুর ৯ ঘণ্টা আগে থেকে শুরু হয়। ৭ই সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ৫৮ মিনিট থেকে গ্রহণ শুরু হওয়ায় এর সূতক কাল শুরু হবে দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিট থেকে। এই সময়ে কোনো ধরনের শুভ কাজ, পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা উচিত নয়। পিতৃপক্ষের প্রথম দিন হওয়ায় এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই দিনে পূর্বপুরুষদের তর্পণ করার নিয়ম রয়েছে। সূতক কালের কারণে দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটের পর থেকে তর্পণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাশিচক্রের উপর প্রভাব
এই চন্দ্রগ্রহণ কয়েকটি রাশির জাতকদের জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
- বৃষ রাশি: এই রাশির জাতকদের জন্য এটি একটি ‘সোনালি সময়’ হতে পারে। কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি, আর্থিক লাভ এবং পুরনো বিনিয়োগ থেকে মুনাফা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। দূরে কোথাও ভ্রমণের সুযোগ আসতে পারে এবং দীর্ঘদিনের কোনো বড় স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
- মিথুন রাশি: মিথুন রাশির জাতকদের জন্য সামনের মাসটি বিভিন্ন দিক থেকে লাভ নিয়ে আসবে। ব্যবসায় বড় মুনাফা, আটকে থাকা টাকা উদ্ধার এবং নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। উপার্জনের নতুন পথও খুলে যেতে পারে।
- মকর রাশি: এই রাশির জাতকরা সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন। আকস্মিক অর্থলাভ, ব্যবসায় সাফল্য এবং কর্মজীবীদের জন্য পদোন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন কোনো পরিকল্পনা শুরু করার জন্য এটি একটি শুভ সময় এবং নতুন বাড়ি বা গাড়ি কেনার যোগও রয়েছে।
এই চন্দ্রগ্রহণটি একইসাথে বৈজ্ঞানিক এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন রাতের আকাশে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করবে, তেমনি অন্যদিকে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।