প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীরা জেলবন্দি হলেই পদ থেকে অপসারণ, নতুন বিল আনছে কেন্দ্র সরকার

বুধবার লোকসভায় তিনটি নতুন বিল পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র, যা ভারতীয় রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। এই বিলগুলোর মূল লক্ষ্য হলো গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা। এই নতুন আইনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নৈতিকতা এবং জনমানসে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইছে সরকার।
বর্তমানে ভারতে এমন কোনো সুস্পষ্ট আইন নেই, যা কোনো মন্ত্রীকে গ্রেফতার বা আটক করা হলে তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এই আইনি শূন্যতা পূরণের জন্যই সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল এনেছে: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধন) বিল ২০২৫, সংবিধান (একশো ত্রিশতম সংশোধন) বিল ২০২৫ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধন) বিল ২০২৫।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিলগুলো পেশ করবেন এবং এগুলোকে সংসদের যৌথ কমিটিতে পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দেবেন বলে জানা গেছে।
বিলগুলোর মূল প্রস্তাবনা:
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংশোধন বিল: এই বিলের উদ্দেশ্য হলো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার বা আটক করা হলে তাদের অপসারণের জন্য আইনি ব্যবস্থা তৈরি করা। এটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন, ১৯৬৩-এর ধারা ৪৫ সংশোধন করবে।
সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী: এই সংশোধনী বিলটির লক্ষ্য হলো সংবিধানের ৭৫, ১৬৪ এবং ২৩৯AA ধারা সংশোধন করা। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আটক হলে তাদের পদ থেকে অপসারণের জন্য আইন তৈরি করা হবে।
জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন সংশোধন: জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধন) বিল, ২০২৫-এর মাধ্যমে এই আইনের ধারা ৫৪ সংশোধন করা হবে এবং একটি নতুন ধারা (৪এ) যুক্ত করা হবে। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের গুরুতর অপরাধের জন্য আটক করা হলে তাদের অপসারণ করা সম্ভব হবে।
৩১তম দিনে স্বয়ংক্রিয় অপসারণ: এই বিলগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যদি কোনো মন্ত্রী পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে ৩১তম দিনে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পদ থেকে অপসারণ করা হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এই অপসারণ করবেন। আর রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে রাজ্যপাল বা লেফটেন্যান্ট গভর্নর এই পদক্ষেপ নেবেন। যদি মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরামর্শ না দেন, তবে ৩১তম দিনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছেন বলে ধরা হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই আইনগুলো সাংবিধানিক নৈতিকতা রক্ষা করবে এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর আস্থা বজায় রাখবে। এই বিলগুলো পাশ হলে ভারতীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।