“ও খুব লম্বা, আমার জন্য জেলেনস্কিই ঠিক আছে!”-মাইক অন, খেয়াল না করেই যা বললেন ট্রাম্প পত্নী

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঘটে গেল এক অদ্ভুত ঘটনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইউরোপের একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত কথোপকথন মাইক্রোফোনে রেকর্ড হয়ে ফাঁস হয়েছে, যা নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সামনে থাকা একটি মাইক্রোফোন অন থাকার কারণেই এই ঘটনা ঘটে।

যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প সম্প্রতি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা হয় হোয়াইট হাউসে। এই বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিক মার্জ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ ইউরোপের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

জেলেনস্কির সঙ্গে মূল বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে সৌজন্যমূলক আলাপচারিতা হয়। সেই সময়ই অনিচ্ছাকৃতভাবে কথোপকথনগুলো ফাঁস হয়ে যায়। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “তোমাকে ভালো দেখাচ্ছে, ট্যান পড়ে গিয়েছে।” জবাবে ম্যাক্রোঁ এই উদ্যোগের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। এরপর ট্রাম্প বলেন, “এই বৈঠকের মাঝেই আমি পুতিনকে ফোন করতে পারি এবং ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকতে পারি। আমি বিশ্বাস করি, তিনি একটি সমঝোতা চান এবং আমার জন্যই তিনি রাজি হবেন।”

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি ছিল ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এবং ট্রাম্পের কথোপকথন। মাইক্রোফোন অন থাকার কথা না জেনেই মেলোনি ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, “জার্মানির চ্যান্সেলর কি লম্বা?” ট্রাম্প উত্তর দেন, “হ্যাঁ, তিনি খুবই লম্বা এবং সুন্দর।” এরপর মেলোনি মজা করে বলেন, “আমি তার পাশে দাঁড়াব না, আমার জন্য জেলেনস্কিই ঠিক আছে।”

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে আরও জানা গেছে, ট্রাম্প তার ওভাল অফিসের কোন অংশে একটি বল রুম তৈরি করছেন, সে বিষয়েও কথা বলেন। অন্যদিকে, ম্যাক্রোঁ এবং মেলোনি উভয়েই জেলেনস্কির সঙ্গে এই বৈঠক সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইউক্রেনের জন্য কিছু কঠোর শর্ত দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে হারানো অঞ্চলগুলো ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের চিন্তা বাদ দিতে হবে। তবে ট্রাম্প ইউক্রেনকে ন্যাটোর মতোই নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর জবাবে জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধের জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছেন: ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি, সামরিক বাহিনী বৃদ্ধির স্বাধীনতা এবং দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অধিকার। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই শর্তগুলো নিয়ে পুতিনকে রাজি করাতে পারেন কিনা।