ধর্ষণের শিকার কিশোরী গর্ভপাতে অনিচ্ছুক, অদ্ভুত পরিস্থিতিতে নির্দেশ দিল আদালত

ধর্ষণের শিকার হওয়া এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর গর্ভপাতের আবেদনকে কেন্দ্র করে দিল্লি হাইকোর্টে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১৪ বছর বয়সী ওই মেয়েটি, যে কিনা তার তুতো ভাইয়ের লালসার শিকার, প্রথমে গর্ভপাত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু এখন সে সন্তান প্রসবে রাজি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আদালত শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার এবং তার দায়িত্ব সরকারের উপর চাপানোর নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, আগস্টের শুরুতে মেয়েটি জানতে পারে যে সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এর পরেই সে গর্ভপাতের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাতের অনুমতি মেলে। এদিকে, এই দুঃসময়ে মেয়েটির মা-বাবা তাকে পরিত্যাগ করেছে, আর তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অভিযুক্ত যুবকের মা। মেয়েটি তার সঙ্গেই থাকতে চায়।
সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা পুরো পরিস্থিতিকে ‘অদ্ভুত’ বলে উল্লেখ করেন। চিকিৎসকরা জানান, এই পর্যায়ে গর্ভপাত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর ফলে মেয়েটির ভবিষ্যতে মা হওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের পর মেয়েটি সন্তানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সম্মতি জানায়।
বিচারপতির নির্দেশে এই ঘটনার বিষয়ে শিশু কল্যাণ কমিটির মতামত চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, শিশুটির জন্মের পর তার সমস্ত চিকিৎসা এবং দেখভালের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। এরপর শিশুটিকে আইনসম্মতভাবে দত্তক দেওয়া হবে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ২০শে অগাস্ট ঘোষণা হতে পারে।