সরকারি চাকরিতে অস্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করতে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, ‘মানুষের আস্থা ক্ষয় হচ্ছে’

সরকারি চাকরিতে অ্যাড-হক বা অস্থায়ী নিয়োগের দীর্ঘদিনের প্রথা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে যে, এই ধরনের নিয়োগের প্রবণতা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গত ১৮ই আগস্ট একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মন্তব্য করে।

আদালত জানিয়েছে যে, সরকারি চাকরিতে বছরের পর বছর ধরে অস্থায়ীভাবে কর্মী রাখা ‘অগ্রহণযোগ্য’। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বহু কর্মী নিয়মিত কর্মীদের সমান দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তাঁদের কোনো চাকরির নিরাপত্তা, পেনশন বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয় না। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই পদ্ধতি শুধু কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে না, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এই মামলার সূত্রপাত হয়েছে গুজরাটে অস্থায়ী শিক্ষকদের নিয়মিত করার দাবি থেকে। আদালত দেখেছে যে, এই ধরনের অস্থায়ী নিয়োগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে এবং সরকারি চাকরির প্রতি তাদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, “অ্যাড-হক নিয়োগ কেবল কর্মীদের শোষণই করে না, বরং প্রশাসনিক দক্ষতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই প্রথা কমাতে হবে এবং স্থায়ী নিয়োগের জন্য একটি স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী নীতি তৈরি করতে হবে। আদালত আরও বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অস্থায়ী কর্মীদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের নিয়মিতকরণের জন্য একটি বিশেষ নীতি তৈরি করা উচিত।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে দেশের লক্ষ লক্ষ অস্থায়ী কর্মী তাঁদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে দেখছেন। কর্মী সংগঠনগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে এবং অবিলম্বে সরকারের কাছে নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছে। যদিও এই রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা এবং পরিকাঠামোগত সংস্কারের বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।