যেখানে আজও মানুষ সংস্কৃতে কথা বলে, ভারতের তেমনই ৫টি বিশেষ গ্রাম

ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত প্রাচীন ভাষা সংস্কৃতকে প্রায়শই ‘দেবভাষা’ বলা হয়। আধুনিক যুগে এই ভাষার ব্যবহার কমে এলেও, ভারতের কিছু গ্রাম আজও তাদের দৈনন্দিন জীবনে এই ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই গ্রামগুলো শুধু নিজেদের ঐতিহ্যই রক্ষা করছে না, বরং প্রমাণ করছে যে সংস্কৃত আজও একটি জীবন্ত ভাষা। আসুন জেনে নেওয়া যাক ভারতের তেমনই পাঁচটি বিশেষ গ্রাম সম্পর্কে।

১. মট্টুর, কর্ণাটক: কর্ণাটকের শিমোগা জেলার মট্টুর গ্রামটি সংস্কৃত ভাষায় কথোপকথনের জন্য সারা বিশ্বে বিখ্যাত। এই গ্রামের প্রতিটি মানুষ, সে শিশু হোক বা বৃদ্ধ, ঘরে, বাজারে এবং মন্দিরেও অবলীলায় সংস্কৃতে কথা বলে। এই কারণেই এই গ্রামটিকে ‘সংস্কৃত গ্রাম’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

২. হোসাহাল্লি, কর্ণাটক: মট্টুরের কাছেই অবস্থিত হোসাহাল্লি গ্রামও সংস্কৃত ভাষাকে তাদের দৈনন্দিন জীবনে গ্রহণ করেছে। এখানেও মানুষ একে অপরের সঙ্গে সংস্কৃতে কথা বলে এবং শিক্ষা থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পর্যন্ত, এই ভাষারই প্রচলন রয়েছে। কর্ণাটকের এই দুটি গ্রাম মিলে সংস্কৃতকে বাঁচিয়ে রাখার এক উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপন করেছে।

৩. ঝিরি, মধ্যপ্রদেশ: মধ্য ভারতের রাজগড় জেলার ঝিরি গ্রামও সংস্কৃত ভাষায় কথা বলার জন্য পরিচিত। এখানকার গ্রামবাসীরা দৈনন্দিন জীবনে সংস্কৃত ব্যবহার করে। মজার বিষয় হলো, এখানে কেবল বয়স্করাই নন, নতুন প্রজন্মও এই ভাষাকে নিজেদের পরিচয়ের অংশ করে তুলেছে।

৪. সাসনা, ওড়িশা: ওড়িশার সাসনা গ্রামটি আধ্যাত্মিকতা ও শিক্ষার মাধ্যমে সংস্কৃতকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখানে অনেক সংস্কৃত বিদ্যালয় রয়েছে এবং স্থানীয়রা নিয়মিত কথোপকথনে এই ভাষা ব্যবহার করেন।

৫. গানোড়া, রাজস্থান: রাজস্থানের বান্সওয়ারা জেলার গানোড়া গ্রামও সংস্কৃতকে তাদের মাতৃভাষার মতো গ্রহণ করেছে। এখানকার গ্রামবাসীরা তাদের স্থানীয় ভাষার পরিবর্তে সংস্কৃত ব্যবহার করে এবং ছোটবেলা থেকেই শিশুদের এই ভাষা শেখানো হয়। এই গ্রামগুলো ভারতের ঐতিহ্য ও পরিচয়কে জীবিত রাখার কাজ করে যাচ্ছে।