স্কুটি শিখতে গিয়ে ঝগড়ার জের?- খালে তরুণ-তরুণীর দেহ উদ্ধার ঘিরে বাড়ছে রহস্য

অবশেষে আনন্দপুরের একটি খাল থেকে নিখোঁজ তরুণী রণিতা বৈদ্যের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে তার সঙ্গী রোহিত আগরওয়ালের দেহও ওই একই খাল থেকে উদ্ধার হয়েছিল। দুই তরুণের এই রহস্যজনক মৃত্যু এখন পুলিশের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
সোমবার সন্ধ্যায় নতুন কেনা স্কুটি চালানো শিখতে রণিতা তার বন্ধু রোহিতের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাদের কোনও খোঁজ ছিল না। রনিতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, তাদের মেয়েকে মারধর করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এরপর তল্লাশি শুরু করে। প্রথমে খাল থেকে উদ্ধার হয় রোহিতের মৃতদেহ। তার হাতে স্কুটির চাবি ছিল। এরপর মঙ্গলবার সকালে রোহিতের দেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরেই লোহার ব্রিজের কাছে রণিতার দেহও পাওয়া যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে বচসার ছবি
এই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ আশেপাশের এলাকার বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজগুলো থেকে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রায় ৪৫ মিনিট আগে রোহিত ও রণিতার মধ্যে রাস্তার ধারে তুমুল ঝগড়া হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এরপর রণিতা দৌড়ে খালের দিকে চলে যান এবং রোহিতও তার পিছু পিছু আসেন।
তদন্তকারীরা এখন বোঝার চেষ্টা করছেন, তারা কি স্বেচ্ছায় খালে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, নাকি ঝগড়ার জেরে দুর্ঘটনাক্রমে জলে পড়ে গেছেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঝগড়ার এক পর্যায়ে দুজনেই খালে পড়ে যান।
এই ঘটনার আসল কারণ জানতে পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে। প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ দুটির শরীরে বাইরে থেকে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তাদের মৃত্যু জলে ডুবে হয়েছে কিনা, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত, আনন্দপুর থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।