শরীরে আঘাতে চিহ্ন নেই, তাহলে কীভাবে মৃত্যু হলো সেই নার্সের? জেনেনিন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট

সিঙ্গুরের বোড়াই নার্সিংহোমে নার্স দিপালী জানার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে অবশেষে সামনে এসেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, দিপালী নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কল্যাণী এইমসের ফরেনসিক দল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা এই ঘটনার পেছনে থাকা নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।
গত ১৪ই অগাস্ট, নার্সিংহোমের চারতলা থেকে দিপালীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এর ঠিক দুই দিন আগেই তিনি সেখানে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে খুনের অভিযোগ আনা হলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর, পরিবারের অনুরোধে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কল্যাণী এইমসে চারজন সিনিয়র ফরেনসিক ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে দিপালীর ময়নাতদন্ত করা হয়, যার পুরো প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘Antemortem Hanging’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ, দিপালী মারা যাওয়ার আগেই গলায় ফাঁস লাগিয়েছিলেন, যা আত্মহত্যার তত্ত্বকে আরও জোরালো করেছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দিপালীর শরীরে কোনো আঘাত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সিঙ্গুর থানার পুলিশ এখন গ্রেপ্তার হওয়া প্রেমিক রাধাগোবিন্দর মোবাইল ফোন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দিপালীর মৃত্যু নিয়ে প্রথম থেকেই শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর চলছিল। বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে খুন বলে আখ্যা দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
এ বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যারা এই মৃত্যু নিয়ে শকুনের মতো রাজনীতি করেছিল, তাদের এখন নাকখত দিয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমরা তো শুরুতেই বলেছিলাম পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। যখন কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের কথা বলা হল, আমরা তাতেও রাজি হয়েছিলাম।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মৃত্যু যে কারণেই হোক না কেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিন্তু বিজেপি ও সিপিএম যেভাবে প্রকাশ্যে খুন ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল, তা খুবই নিন্দনীয়। আজ কেন্দ্রীয় সরকারের হাসপাতালের রিপোর্টেই প্রমাণিত হয়ে গেল কারা মিথ্যাবাদী। যারা মৃতদেহ নিয়েও রাজনীতি করতে পারে, তারা কতটা নিচে নামতে পারে, তা এবার জনগণের বোঝা উচিত।”